Home / পার্বত্য / ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা উপজাতীয়দের আদিবাসী বললে সমস্যা কোথায়?

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা উপজাতীয়দের আদিবাসী বললে সমস্যা কোথায়?

||হান্নান সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রাম||

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা উপজাতিদের আদিবাসী বললে সমস্যা কোথায়?

৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। ৯ আগস্ট আসলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের মত আমাদের দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী-উপজাতি মানুষরাও ডামাডোল পিটিয়ে আদিবাসী দিবস পালন করে থাকে। যদিও আমাদের দেশে কোন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর করার পর্যাপ্ত ইতিহাস নেই৷ এমনকি রাস্ট্রীয় ভাবেও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতি নেই। মূল কথা হচ্ছে- কাক যেমন ময়ূরের পেখম লাগালে ময়ূর হয়না, তেমনি এদেশের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীগুলো কখনো আদিবাসী হয়না।

এদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে বসবাসরত চাকমা, মারমা ত্রিপুরা, সাঁওতাল ও গারোগুলো আদিবাসী কিনা,এবং এদের আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে সমস্যা কোথায় তা জানতে বিশদভাবে আলোচনায় আসা যাক-

পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর বসবাসের ইতিহাস ৩০০ বছরের নিচে। জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত (আইএলএ) আদিবাসীর সংজ্ঞা মতে আদিবাসী হতে হলে- যথাস্থানে কয়েক হাজার বছর বসবাস করতে হবে, এমনকি যাদের বসতি স্থাপনের বা যথাস্থানে বসবাসের কোন ইতিহাসই খুঁজে পাওয়া যায়নি, এবং যাদের রয়েছে পনের শতের অধিক ভাষা। মূলত তারাই জাতিসংঘের (আইএলও) মতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশ বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা উপজাতি মানুষদের সঙ্গে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সমমানের কোন বিন্দুমাত্র মিল নেই।
সবচেয়ে অবাক করা তথ্য হলো- বাংলাদেশ বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও উপজাতি মানুষের বসবাস মাত্র ৩০০ বছর। এরা পার্শবর্তী বার্মা ও ভারত সহ মঙ্গোলীয় থেকে ১৭৩০ সাল নাগাদ যুদ্ধে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অস্থায়ীভাবে আশ্রয়-প্রসয় নেয়৷ অনেক চাকমা ও মারমা পন্ডিত, লেখকগণও অনায়াসে তাদের লেখা বিভিন্ন বইতে উল্লেখ করেছে, “তারা আদিবাসী না, তারা পার্শবর্তী দেশ থেকে এদেশে এসে বসতি স্থাপন করেছে। তাদের আদি নিবাস বার্মা ও বার্মার চম্পকনগর।” তারা যে এদেশের আদি বাসিন্দা নয়, এটা তারা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও অকপটে স্বীকার করে।

এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তথা উপজাতীয়দের একটি অংশ রাস্ট্রের জন্য বিষফোঁড়া।
উপজাতিদেরকে তৎকালীন ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি বিষদাঁত হিসেবে ও দাবার গুঁটি হিসেবে পার্বত্যের গহীন অরণ্যে আশ্রয় দেয়৷ অথচ আশ্রয়ে আশা বহিরাগত অভিবাসী উপজাতি গুলো আজ নিজেদের এদেশের আদি বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেয়। দাবি তোলে আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, এই দেশে আশ্রয়ে এসে তারা ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক ১ বছর পর ১৯৭২ সালে তথাকথিত শান্তিবাহিনী গঠন করে এম.এন লারমার নেতৃত্বে, এবং ইন্ডিয়ার সহযোগিতায়। এই শান্তিবাহিনী গঠন হওয়ার পর অর্তিকিতভাবে রাষ্ট্রীয় স্থাপন ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী সহ বাঙ্গালীদের উপর বর্বোরোচিত হামলা শুরু করে। দীর্ঘ সশস্ত্র লড়াই লেগেছিল পার্বত্য জুড়ে। অশান্ত ছিলো সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রাম। সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো তথাকথিত শান্তিবাহিনী। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালের ২-রা ডিসেম্বর সরকার ও তথাকথিত শান্তিবাহিনীর মধ্যকার সংঘাত পরিহার ও অবৈধ অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিরাজমান পরিস্থিতি শান্ত করার চুক্তি সম্পাদিত হয়। উক্ত চুক্তিতে সরকারের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র একটি প্রধান শর্ত ছিলো ‘অবৈধ অস্ত্র পরিহার’। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) তথাকথিত শান্তিবাহিনীর পক্ষ হতে যেসব দাবিদাওয়া ছিলো সব দাবিদাওয়া মেনে নিয়ে পার্বত্য চুক্তি সাক্ষর করে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার। শান্তিবাহিনীর দাবিদাওয়া ও শর্তের তুলনায় সরকারের শর্ত ছিলো অতি নগন্য। তবুও তথাকথিত শান্তিবাহিনী সম্পূর্ণ অস্ত্র সরকারের কাছে হস্তান্তর না করে পূনরায় অস্ত্র নিয়ে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পার্বত্য জনপদ রক্তপ্রবাহ সৃষ্টি করে। চুক্তির শর্ত লংঘন করে রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক অপরাধ করেছে তথাকথিত শান্তিবাহিনী। ১৯৯৭-২রা ডিসেম্বর তৎকালীন পার্বত্য চুক্তিতে উপজাতিরা নিজেদের আদিবাসী হিসেবে দাবি না করে বরঞ্চ নিজেদের উপজাতি হিসেবে উল্লেখ করে চুক্তি সাক্ষরিত করেছিলেন। ভাবনার বিষয় হলো- চুক্তির এত বছর পরে আবার এখন তারা নিজেদেরকে আদিবাসী দাবি করে। এটা গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস। পার্বত্য চুক্তির সম্পাদিত উপজাতি কোটায় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, এমনকি উপজাতি কোটায় শিক্ষা-দীক্ষা ও চাকরিও এখন তারা দাবি জানান দিচ্ছে নিজেরা “আদিবাসী!!”

আদিবাসী নিয়ে যারা বেশি বাড়াবাড়ি শুরু করেছেন, তারা হচ্ছে উপজাতিদের অধিকারের নামে ধোঁকাবাজি করা সংগঠন জেএসএস ও ইউপিডিএফ। অধিকারের দোহাই দিয়ে চাঁদাবাজি ও মানুষ হত্যা করা সন্ত্রাসী বাহিনী ও কিছু বিদেশি দাতাসংস্থা সহ এদেশীয় ষড়যন্ত্রকারীরা আদিবাসী স্বীকৃতি নিয়ে সরগরম করছে। এরমধ্যে সবচেয়ে অন্যতম সক্রিয় হচ্ছে সুশীল, কতিপয় বুদ্ধিজীবি ও প্রগতিশীল রাম-বামরা। বৈদেশিক দাতাসংস্থা ইউএনডিপি অর্থয়ানে কতিপয় আদিবাসী শব্দের প্রচলন ও স্বীকৃতি দাবি এদেশে উপজাতিদের মধ্যে উঠেছে। সমতলের ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে বসবাসরত সাঁওতাল গারো সহ কয়েকটি তফসিল সম্প্রদায়ও নিজেদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানাচ্ছেন তাদের সাথে সুর মিলিয়ে। তাদের এদেশের বসবাসের ইতিহাসও ৩০০ বছরের বেশি নয়।

এখানে একটি ভূল ব্যাখা বেশি কাজ করছে। এই ভূল ব্যাখা কাজ করার পেছনে লুকিয়ে আছে রাষ্ট্র ভাগ করার ভয়ংকর পরিকল্পনা-
বেশ করে যারা পার্বত্যাঞ্চল ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাকে ‘উপজাতি খাটো ও অপমান জনক শব্দ বলে ভূল ব্যাখা দিয়ে আদিবাসী পরিচয় বহন ও স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য আন্দোলন সৃষ্টি করে দিয়েছে’ তাদের অবস্থান বরাবরই সারাবিশ্বে প্রশ্ন বিদ্ধ। এদের শেখানো ফন্দি আঁটেন স্বদেশীয় মীরজাফররা। এমতাবস্থায় উপজাতিরা মনে করে আদিবাসী জাতি হিসেবে তাদের পরিচয় বহন করা গর্বের আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা উপজাতি হিসেবে পরিচয় বহন করা অপমানজনকও লজ্জাকর! তাই তারা আর উপজাতি পরিচয়ে থাকতে চাননা! বিষয়টি যেমন হাস্যকর তেমনি উদ্বেগ জনক। এটা রাষ্ট্র ভাগ করার ষড়যন্ত্রও বটে। এমন ভয়ংকর পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী।

এবার জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশে সংবিধান তথাকথিত আদিবাসী দাবিদারদের বিষয়ে কী বলে-

বাংলাদেশ সংবিধানে পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠী, এবং সমতলের ময়মনসিংহ ও রাজশাহী সহ কিছু বিভাগে বসবাস করা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও তফসিল সম্প্রদায় (আদিবাসী দাবিদার) মানুষদের পরিচয় স্বীকৃতি হচ্ছে- উপজাতি হিসেবে। (সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদের (ক) অনুযায়ী তারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা উপজাতি)
উপজাতি শব্দের সংজ্ঞা হচ্ছে রাষ্ট্রের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর থেকে যারা সংখ্যায় কম ও যাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর চেয়ে আলাদা তারাই ‘উপজাতি’৷ এই উপজাতি শব্দে খাটো জাতি, অপমান কিংবা লজ্জাজনক কিছু নেই৷ তবুও বিদেশে দাতাসংস্থা, খৃষ্টান মিশনারী ও এই দেশের সুশীল, প্রগতিশীল, রাম-বামরা সহ উপজাতি সন্ত্রাসীরা এদের উপজাতি শব্দের ভূল ব্যাখা দিয়ে ‘আদিবাসী’ বানাতে উড়ে পড়ে লেগেছে! এইটা সত্যি দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের নীল নকশা, এবং বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের আভাস।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তথা উপজাতি হিসেবে পরিচয়বহন করা উপজাতিরা হঠাৎ নিজেদের সংবিধানে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি তোলা শুরু করে ২০০৭ সাল থেকে। সমস্যা বাঁধিয়েছে ২০০৭ সালে জাতিসংঘের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য ঘোষণাপত্র। এই ঘোষণাপত্রে ৪৬টি অনুচ্ছেদ রয়েছে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সুরক্ষা অধিকার, আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ও স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা সহ জাতীয়তাবাদের অধিকার, এবং ভূমি অধিকার। এই অনুচ্ছেদ গুলো একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য হুমকি। কী বলা আছে জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রে অনুচ্ছেদ গুলোতে?

অনুচ্ছেদ-৩: আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার বলে তারা অবাধে তাদের রাজনৈতিক মর্যাদা নির্ধারণ করে এবং অবাধে তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মপ্রয়াস অব্যাহত রাখে।

অনুচ্ছেদ-৪: আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার উপভোগের বেলায়, তাদের অভ্যন্তরীণ ও স্থানীয় বিষয়ে তথা স্বশাসিত কার্যাবলীর অর্থায়নের পন্থা ও উৎস নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের স্বায়ত্তশাসন বা স্বশাসিত সরকারের অধিকার রয়েছে।

অনুচ্ছেদ-৫: আদিবাসী জনগণ যদি পছন্দ করে তাহলে রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পূর্ণ অধিকার রেখে তাদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক, আইনগত, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান অক্ষুন্ন রাখা ও শক্তিশালীকরণের অধিকার লাভ করবে।

অনুচ্ছেদ-৬: আদিবাসী ব্যক্তির জাতীয়তা লাভের অধিকার রয়েছে।

উল্লেখিত অনুচ্ছেদগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, বাংলাদেশের উপজাতীয় জনগোষ্ঠী আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি পেলে বাংলাদেশের ভেতর কমপক্ষে ৪৫টি স্বায়ত্তশাসিত বা স্বশাসিত অঞ্চল ও সরকার ব্যবস্থার সৃষ্টি হবে। এসব অঞ্চলে সরকার পরিচালনায় তারা নিজস্ব রাজনৈতিক কাঠামো, জাতীয়তা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আইনপ্রণয়ন ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার পাবে।

এছাড়া এই ঘোষণাপত্রে আদিবাসীদের ভূমির উপর যে অধিকারের কথা বলা হয়েছে তা আরো ভয়ানক।

যেমন, অনুচ্ছেদ-২৬: ১. আদিবাসী জনগোষ্ঠীর তাদের ঐতিহ্যগতভাবে মালিকানাধীন, দখলীয় কিংবা অন্যথায় ব্যবহার্য কিংবা অধিগ্রহণকৃত জমি, ভূখন্ড ও সম্পদের অধিকার রয়েছে।

২৬: ৩. রাষ্ট্র এসব জমি, ভূখন্ড ও সম্পদের আইনগত স্বীকৃতি ও রক্ষার বিধান প্রদান করবে। সংশ্লিষ্ট আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রথা, ঐতিহ্য এবং ভূমি মালিকানা ব্যবস্থাপনা মেনে সেই স্বীকৃতি প্রদান করবে।

অনুচ্ছেদ-২৮: ১. আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি, ভূখন্ড ও সম্পদ যা তাদের ঐতিহ্যগতভাবে মালিকানাধীন কিংবা অন্যথায় দখলকৃত বা ব্যবহারকৃত এবং তাদের স্বাধীন ও পূর্বাবহিত সম্মতি ছাড়া বেদখল, ছিনতাই, দখল বা ক্ষতিসাধন করা হয়েছে এসব যাতে ফিরে পায় কিংবা তা সম্ভব না হলে, একটা ন্যায্য, যথাযথ ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পায় তার প্রতিকার পাওয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার রয়েছে।

অনুচ্ছেদ-৩০: ১. আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বেচ্ছায় সম্মতি জ্ঞাপন বা অনুরোধ ছাড়া ভূমি কিংবা ভূখন্ডে সামরিক কার্যক্রম হাতে নেয়া যাবে না।

অনুচ্ছেদ-৩২: ২. রাষ্ট্র আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি, ভূখন্ড ও সম্পদের উপর প্রভাব বিস্তার করে এমন কোনো প্রকল্প অনুমোদনের পূর্বে, বিশেষ করে তাদের খনিজ, পানি কিংবা অন্য কোনো সম্পদের উন্নয়ন, ব্যবহার বা আহরণের পূর্বে স্বাধীন ও পূর্বাবহিত সম্মতি গ্রহণের জন্য তাদের নিজস্ব প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাথে আলোচনা ও সহযোগিতা করবে।

বৃটিশদের হিল ম্যানুয়েলের অনুযায়ী তারা আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার পেতে পারেনা। হিল ম্যানুয়েল কোন জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র না। এইটা বাঙ্গালী জাতিকে অর্থাৎ বাংলাদেশকে নাকানিচুাবানী খাওয়ার ফন্দি। “হিল ম্যানুয়েল” যার কোন আইনগত ভিত্তি নেই।

উপর্যুক্ত অনুচ্ছেদগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, বাংলাদেশের উপজাতীয় জনগোষ্ঠী আদিবাসী স্বীকৃতি পেলে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে নিজস্ব আইনে নিজস্ব ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মুষ্টিমেয় চিহ্নিত উপজাতিরা দাবি করছে ঐতিহ্য ও প্রথাগত অধিকার বলে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল ভূমির মালিক তারা। একই অধিকার বলে সমতলের (তফসিল সম্প্রদায়) অধ্যুষিত এলাকার সকল ভূমির মালিকানা সেখানকার উপজাতীয়রা দাবি করবে। সেখানে যেসব ভূমি সরকারি ও ব্যক্তিগত মালিকানায় বাঙালীরা রয়েছে তা ফেরত দিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে যেহেতু ঐ গোষ্ঠী সকল সামরিক স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার দাবি জানাচ্ছে, সে কারণে সেখান থেকে সকল সামরিক স্থাপনা সরিয়ে নিতে হবে। সামরিক স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া মানে ভূখণ্ড ভাগের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া। এমনতে তাদের রয়েছে একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ, যারা প্রতিনিয়ত বাঙ্গালী ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর উপর হামলা করে যাচ্ছে।

আদিবাসী হিসেবে এদের স্বীকৃতি দিলে রাষ্ট্র ভাগ হতে চূড়ান্ত পর্যায়ে যাবে।

আদিবাসী জনগোষ্ঠী জাতীয়তা লাভের সুবিধার জন্য তারা যদি তাদের অঞ্চলে জাতীয়তা লাভের জন্য জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়ে জাতিসংঘের মাধ্যমে গণভোট আয়োজন করে পার্বত্যাঞ্চল আলাদা রাষ্ট্র গঠন চেষ্টা করে, সেক্ষেত্রে তারা আলাদা রাষ্ট্র গঠন করতে পারবে। যেমনটা হয়েছিলো ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব তিমুর ও দক্ষিণ সুদানে।

ইতোমধ্যে উপজাতি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো পার্বত্যাঞ্চলকে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা জম্মাল্যান্ড নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম শুধু করেছে৷ রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও বাঙ্গালীদের উপর হামলা প্রতিনিয়ত চলছে। নতুন রাষ্ট্র গঠনের একাডেমিক ফাওয়ার ও প্রকাশ করেছে এডুকেশন.ডকুমেন্টস নামের ওয়েবসাইট বরাতে।

উপজাতি জনগোষ্ঠী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য জাতিসংঘে আলাদা ঘোষণাপত্র রয়েছে। বাংলাদেশের উপজাতিদের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঘোষণাপত্রটি সম্পর্কে শুধুমাত্র ধারণা দেওয়া হয়েছে অন্যদিকে উপজাতি জনগোষ্ঠীর ঘোষণাপত্রটি সম্পর্কে নূন্যতম প্রচার ও ধারণা দেওয়া হয়নি৷ এসব কারণে শুধু উপজাতিরা নয় দেশের অধিকাংশ মানুষও “উপজাতি, এবং আদিবাসী” শব্দের তফাৎ বুঝেনা।

মতামত

x