Home / আইন-আদালত / দেশের প্রচলিত আইনের সাথে পাহাড়ের আইনের ভিন্নতা থাকায় সন্ত্রাসীরা অবাধে বিশৃঙ্খলা করছে!

দেশের প্রচলিত আইনের সাথে পাহাড়ের আইনের ভিন্নতা থাকায় সন্ত্রাসীরা অবাধে বিশৃঙ্খলা করছে!

||তাপস কুমার পাল||

অস্থিতিশীলতার এক অঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রাম। এখানে প্রতিটি মূহুর্তে মানুষ আতঙ্ক থাকে। কখন কি ঘটনা গড়ে এমন ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে আছে পার্বত্য বাসিন্দারা! দেশের প্রচলিত আইনের সাথে পাহাড়ের আইনের অনেকটাই ভিন্নতা থাকায় উপজাতি চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা অবাধে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে অনুপ্রেরণা পাচ্ছে।

স্বাধীন বাংলাদেশ ৫০ বছর পদার্পন করলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম এখনো স্বাধীনতার পুর্নাঙ্গ সুফল পায়নি।
চরমপন্থি উপজাতি সন্ত্রাসীদের গুরু কথিত রাজা ত্রীদিব রায়ের পাকিস্তান প্রীতি থেকেই পাহাড়ের উপজাতি সন্ত্রাসীদের স্বাধীনতা বিরোধি মনোভাব তৈরি হয়।১৯৭১ সালে উপজাতিদের পরম বন্ধু পাকিস্তানি শোষক গোষ্ঠীর পরাজয় নিশ্চিত করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুত্থান ঘটায় বাংলার দামাল ছেলেরা।
পাকিস্তান পন্থী উপজাতিরা স্বাধীন বাংলাদেশকে মনের মধ্যে স্থান দিতে পারেনি অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশকে অস্বীকার করেছে।
স্বাধীন বাংলাদেশকে মৌখিক অস্বীকারের মধ্যেই উপজাতি চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা সিমাবদ্ধ থাকেনি,আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এনজিও সংস্থা এবং দেশীয় কিছু বিবেক বর্জিত কথিত বুদ্ধিজীবীদের প্ররচোনায় পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে জুম্মল্যান্ড নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র করে।
উপজাতি চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে তাদের স্বপ্নের জুম্মল্যান্ড গঠন করতে বিভিন্ন কুটনৈতিক তৎপরতার সাথে সাথে পাহাড়ে শুরু করে সশস্ত্র হামলা।চরমপন্থি উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলার জবাবে বাংলাদেশ সরকার তেমন কোন সশস্ত্র হামলা করেনি মানবিক বিপর্যয় থেকে দেশকে রক্ষা করতে।বাংলাদেশ সরকার সমস্যা সামাধানের আশ্রয় খোঁজে রাজনৈতিক ভাবে।
রাজনৈতিক ভাবে উপজাতি সন্ত্রাসীদের দমন করতে সরকার পাহাড়ের সন্ত্রাসী সংগঠন জে এস এসের সাধে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে আবদ্ধ হয়।
যেই চুক্তির অনেক ধারা দেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক।
শান্তিচুক্তি নামক সংবিধান বিরোধী এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের প্রচলিত আইনের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু আইনের পার্থক্য দেখা দেয়।
যেমন বাংলাদেশ সংবিধানের ১৪৪ নং ধারায় বলা হয়েছে ‘প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী কর্তৃত্বে সম্পত্তি গ্রহণ, বিক্রয়, হস্তান্তর, বন্ধকদান ও বিলি-ব্যবস্থা, যে কোন কারবার বা ব্যবসায়-চালনা এবং যে কোন চুক্তি প্রণয়ন করা যাইবে’।
কিন্তু পার্বত্য শান্তিচুক্তির ফলে সংবিধানের ১৪৪ নং ধারাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের যারা স্থায়ী বাসিন্দা নয় তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন প্রকার ভূমি ক্রয় বিক্রয় করতে পারবেনা।
ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করে সরকার দেশের সংবিধান তথা প্রচলিত আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশে সংবিধানের ১৪৩ নং ধারায় ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয় স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকার পরও সরকার আবার ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করে দেশের প্রচলিত আইনের বিরুদ্ধে একদিকে অবস্থান নিয়েছে অন্যদিকে চরমপন্থি উপজাতি সন্ত্রাসীদেরকে প্রশ্রয় দিয়েছে।
সংবিধানের ১৪৩ নং ধারায় উউল্লেখ রয়েছে’আইনসঙ্গতভাবে প্রজাতন্ত্রের উপর ন্যস্ত যে কোন ভূমি বা সস্পত্তি ব্যতীত বাংলাদেশে অবস্থিত প্রকৃত মালিকবিহীন যে কোন সম্পত্তি প্রজাতন্ত্রের উপর ন্যস্ত হইবে।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৬ নং ধারার ২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন।কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিদের বিভিন্ন সরকারি নথিপত্রে অ-উপজাতি হিসেবে উল্লেখ করে একদিকে সংবিধানকে কলঙ্কিত করা হয়েছে অন্যদিকে বাঙালি জাতিসত্তাকে খাটো করা হয়েছে।
তাছাড়া এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে উপজাতি সম্প্রদায়কে বাধ্যতামূলক করা, উপজাতি সম্প্রদায়কে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মিথ্যে বুলি লাগিয়ে সকল সুযোগ সুবিধা তাদের হাতে দিয়ে বাঙালি জনগোষ্ঠীকে বৈষম্যের শিকার করে ন্যায় বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, এগুলো সবি দেশের প্রচলিত আইন তথা সংবিধানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

যার ফলে উপজাতি চরমপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীরা পাহাড়ে নিত্য নতুন অঘটন ঘটিয়েই যাচ্ছে।
দেশের প্রচলিত আইনের সাথে পাহাড়ের আইনের ভিন্নতার যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ।হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব।
তাই দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা বজায় রাখতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য আলাদা কোন নিমম-কানুন না রেখে দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই পাহাড়কে শাসন করতে হবে।তাহলে হয়তো পাহাড়ের বিবাদমান সমস্যা সমাধান সম্ভব।

মতামত

x