Home / সামরিক বাহিনী / সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের ফলে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক নৃশংস হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে!

সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের ফলে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক নৃশংস হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে!

খাগছাছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গায় উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক তিন ধরে চালানো সন্ত্রাসী হামলা ও তান্ডবলীলা বলে দেয় পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে।

গত ৪ এপ্রিল সকাল আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে বাঙ্গালিরা নিজেদের দখলীয় জমিতে কচু চাষ করতে যায়। কচু চাষ করতে গেলে বাঙ্গালীদের বাধা প্রদান করে ইউপিডিএফ প্রসিত বিকাশ সন্ত্রাসীরা। ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপ হচ্ছে, ১৯৯৭ সালের “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির” বিরুদ্ধে আত্মপ্রকাশ করা সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন। বিচ্ছিন্নতাবাদী দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতক উপজাতি সংগঠন এটি। স্বায়ত্তশাসন ও জাতির অধিকারের দোহাই দিয়ে প্রতিনিয়ত সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অপহরণ, মানুষ হত্যা ও অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ তাদের মূল কাজ। চাঁদাবাজির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অংশ হিসেবে বাঙ্গালিদের কচু চাষে বাধা প্রদান করেন। বাঙ্গালিরা বাধা অমান্য করে নিজেদের জমিতে কাজ করতে শুরু করলে বাঙ্গালীদের উপর নৃশংস হামলা শুরু করে ইউপিডিএফ। খবর পেয়ে ঘটনারস্থলে আশে পাশের গ্রাম গুলো হতে বাঙ্গালিরা আহত ও জিম্মি বাঙ্গালিদের উদ্ধার করতে গেলে তাদের উপরও হামলা করে সন্ত্রাসীরা। রণক্ষেত্র হয় পুরো এলাকা, তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। ৩ থেকে ৪ ঘন্টা তান্ডব চালায় সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার সময় এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে প্রায় ৬০/৭০ রাউন্ডের মতো। এতে মো.মনির হোসেন নামে এক বাঙ্গালি গুলিবিদ্ধ হয়। আহত হয়১৫/২০ জন বাঙ্গালি। তাদের মধ্যে মারাত্মক আহত ৫ বাঙ্গালিকে খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়৷ বাকিদের এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই নিয়ে বাঙ্গালিরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

গত ৪ এপ্রিলের ঘটনার সূত্রপাতকে কেন্দ্র করে পুনরায় ৫ তারিখ দিবাগত রাতে খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইন্দং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া পংবাড়ি নামকস্থানে মফিজ মিয়া নামে বাঙ্গালির দখলীকৃত সেগুন বাগানের ৩ শতাধিক চারা গাছ কেটে দেয়। এরপর নিরিহ আনু মিয়ার চায়ের দোকানও ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা আগুন লাগিয়ে পুড়ে দেয়।

দায়িত্বপ্রাপ্তরা গত ৪ এপ্রিল হতে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলা, গুলিবর্ষণ ও তান্ডবলীলার বিরুদ্ধে কোনপ্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি। হামলার ঘটনা নিয়ে সচেতন মহল রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ থাকায় জনমতে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ সুযোগে ইউপিডিএফ কর্তৃক বেপরোয়াভাবে বাঙ্গালিদের ভূমি দখলের চেষ্টা করা সহ বাঙ্গালিদের উপর হামলা অব্যাহত থাকে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে সচেতন মহলের কিছু কতিপয় ব্যক্তি সম্পূর্ণ ঘটনার দায় বহন করতে হবে বলে স্থানীয় মানুষ হুশিয়ারী উচ্চারণ করে অভিমত ব্যক্ত করে। তবলছড়ি থেকে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক বাঙ্গালি জানান, ৪ এপ্রিল হামলার পর ২০ জনের মতো বাঙ্গালি আহত হয়। এদের মধ্যে ৫ বাঙ্গালি মারাত্মকভাবে আহত হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত, সচেতন মহল ও নেতৃত্বশ্রেণী যদি প্রথম ঘটনার পর পর ব্যবস্থা নিতো পরবর্তীতে আর একাধিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতো না। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোন নৈপুণ্য আছে। এর শিকার হতে হচ্ছে দিনমজুর বাঙ্গালিদের। বারবার হামলা করেও রক্ষা পেয়ে যাচ্ছে উপজাতিরা। অধরাই রয়ে যাচ্ছে দেশদ্রোহী অপশক্তি। কেন তারা অধরাই তা নিয়েও রহস্য তৈরি হয়েছে জনমতে। উপরোক্ত হামলার স্থানে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন হতে সেনা ক্যাম্প স্থাপনের জোর দাবি জানিয়ে আসছে। সেনা ক্যাম্প স্থাপন না করার কারণে সন্ত্রাসীরা লাগামহীন চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি ও খুন-গুম অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর কারণে উক্ত জনপদের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা সংকট দেখা দিয়েছে।

গতকাল ৫ এপ্রিল দিনে ও রাতে তবলছড়ি ও তাইন্দং ইসলামপুর, শুকনাছড়ি, মুসলিমপাড়া ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে বাঙ্গালিদের মারধর ঘরে ঘরবাড়ি থেকে বাহির করে দেয়। এর প্রতিবাদে রাতে কয়েক হাজার বাঙ্গালি ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সারারাত জেগে বাঙ্গালি অধ্যুষিত গ্রাম গুলোতে বাঙ্গালিরা পাহারা বসায়। যাতে ঘুমন্ত বাঙ্গালিদের উপর এবং ঘরবাড়ির উপর হামলা করতে না পারে সন্ত্রাসীরা।

কয়েক দফায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে তবলছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির আইসি।

স্থানীয় বাঙ্গালিরা মনে করে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের ফলে পাহাড়ে উপজাতি সন্ত্রাসীদের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ে বর্তমানে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে বাঙ্গালিদের উপর হামলা করার সাহস পাচ্ছে। পাহাড়ের আনাচে কানাচে উপজাতি সন্ত্রাসীদের বিচরণ। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ২৩৯ টি সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করে নেয়৷ যার ফলে পাহাড়ে নিরাপত্তার সংকট তৈরি হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী উপজাতি সন্ত্রাসীরা সমস্ত অস্ত্র সরকারের নিকট আত্মসমর্পণ করার কথা ছিলো। কিন্তু সমস্ত অস্ত্র সরকারের নিকট আত্মসমর্পণ করেনি উপজাতি সন্ত্রাসীরা। পাহাড়ে এখনো অবৈধ অস্ত্রধারী বিদ্যমান। সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে এবং সন্ত্রাসী দমনের জন্য সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপন জরুরী প্রয়োজন।

অন্যদিকে মাটিরাঙ্গা বাঙ্গালি অধ্যুষিত এলাকায় বারবার বাঙ্গালিদের উপর হামলা চালিয়ে বাঙ্গালিদের উস্কে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে সন্ত্রাসীরা। অনাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত্র তৈরি করে সন্ত্রাসীরা সাধারণ উপজাতিদের ঘরে আগুন দিয়ে তার দায়ভার বাঙ্গালির উপর চাপানোর জন্য ফাঁদ পেতে আছেন। স্থানীয় সূত্রে এবং গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এমনই তথ্য উঠে আসে। বাঙ্গালিরা নিজেরা হামলার শিকার হওয়ার পরেও যেনো উপজাতি সন্ত্রাসীদের পাতানো ফাঁদে পা না দেয়। সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বিগত কয়েক বছরের ইতিহাস বলে সন্ত্রাসীরা উস্কে দিয়ে অনাঙ্ক্ষিত ঘটনা তৈরি করে বাঙ্গালিদের মামলার আসামী করে ফায়দা লুটিয়ে নিয়েছে। তার বলি হতে হয়েছে সাধারণ উপজাতি-বাঙ্গালিকে।

আজ ৩ দিন হলো বাঙ্গালিদের উপর হামলার। খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গা বাঙ্গালিদের উপর তীব্র হামলার পরেও খাগড়াছড়ি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্তগণ ও জনপ্রতিনিধিগণ ঘটনারস্থল পরিদর্শনে আসেনি৷ ক্ষতিগ্রস্ত বাঙ্গালিদের চিকিৎসার খবরাখবরও নেয়নি। যদি এই হামলা কোন উপজাতির উপর হতো তাহলে এতক্ষণে উল্লেখিত মহল ছুটে এসে চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ করতো এবং বাঙ্গালির চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করতো। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হতো। মামলা হামলায় জর্জরিত হয়ে এলাকা ছাড়তে হতো বাঙ্গালিদের। ক্ষোভ প্রকাশ করে এমনই তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় বাঙ্গালিরা।

এদেশের তথাকথিত গণমাধ্যম গুলো বাঙ্গালির চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করতে এমনিতেই মুখিয়ে আছে। উপজাতি সন্ত্রাসীরা বাঙ্গালিদের উপর নৃশংস হামলা করে নির্লজ্জের মত বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একের পর এক মিথ্যাচার রটিয়ে দিচ্ছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামা সৃষ্টি করার পাঁয়তারার অংশ হিসেবে।

ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী কর্তৃক নৃশংস হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অতিবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানায়। প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্প গুলো অতিবিলম্বিত পুনরায় স্থান করার জোর দাবি জানায়।

লেখাটি স্বাধীন মুক্তমত প্রকাশের অংশ।

মতামত

x