Home / রাঙামাটি / কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ভূষণছড়া বাঙালি গণহত্যার ইতিহাস!

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ভূষণছড়া বাঙালি গণহত্যার ইতিহাস!

জিহান মোবারক, রাঙামাটি

গণহত্যা এমন একটি শব্দ যা পুরো গোষ্ঠীটি ধ্বংস করার অভিপ্রায় সহ জাতীয়, জাতিগত, বর্ণ বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। এই শব্দটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে কেবল ব্যবহারে আসে।
গণহত্যার সময় একটি জাতিকে নির্মূল করতে যা যা করা হয় তা হলো: গ্রুপের সদস্যদের হত্যা বা মারাত্মক শারীরিক বা মানসিক ক্ষয়ক্ষতি, গোষ্ঠীর মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে উদ্ভূত জীবনের পরিস্থিতি, আগুনে পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া, আবাল, বৃদ্ধা কাউকে রেহাই না দেওয়া।
গণহত্যার “ধ্বংসের অভিপ্রায়” এটিকে জাতিগত নির্মূলকরণের মতো মানবতার অন্যান্য অপরাধ থেকে পৃথক করে, যার লক্ষ্য ভৌগলিক অঞ্চল থেকে একটি দলকে জোর করে বহিষ্কার করা (হত্যা, জোরপূর্বক নির্বাসন এবং অন্যান্য পদ্ধতি দ্বারা)।

ঠিক পার্বত্য বাঙালিদের নির্মূল করতে তারা গণহত্যার সবগুলো ধাপ ব্যবহার করেছিল। পার্বত্য চট্টগ্রামে সংগঠিত ১৩ টি গণহত্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার ভূষণছড়া গণহত্যা। এই গণহত্যার খবরটি এদেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও চেপে গিয়েছে তৎকালীন প্রশাসনের নজিরবিহীন কারসাজির কারণেই। ঘটনার ভয়াবহতা এতটা মারাত্মক ভয়ানক ছিলো প্রশাসন তৎকালীন বিষয়টি প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মূলত প্রশাসনের অসহযোগিতা ও নিষ্ঠুরতার কারণে এমন নৃশংস গণহত্যা ইতিহাস থেকে মুছে গেছে।

১৯৮৪ সালের ৩১ মে, রাতের অন্ধকারে পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) প্রকাশ শান্তিবাহিনীর সন্তু গংদের হাতে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় ৩ শতাধিক পরিবারের সদস্য। গণহত্যার শিকার হওয়া মানুষ গুলোর পরিচয় হচ্ছে, তারা সবাই বাঙালি। তাদের অপরাধ তারা সরকারের হুকুম মতে ১৯৭৯ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে এসে পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্নবাসিত হয়েছিল। এ অপরাধে তথাকথিত শান্তিবাহিনীর সন্ত্রাসীরা তাদের রাতের অন্ধকারে গণহত্যার মাধ্যমে নিধন করার অপচেষ্টায় করে। তৎকালীন শান্তিবাহিনীর মেজর রাজেশ চাকমার নেতৃত্বে এ নৃশংস জঘন্য ঘৃণিত অপরাধমূলক গণহত্যা সংগঠিত করা হয়। যা পার্বত্য ইতিহাসে এক কলঙ্কময় ঘটনা।
প্রশ্ন আসতে পারে এই রাজেশ চাকমা-কে?? এই রাজেশ চাকমা হচ্ছে-
২০০১ সালে বিএনপি সরকারের রাঙামাটি সংসদীয় আসনের এমপি মণি স্বপন দেওয়ান। বিএনপি সরকার তাকে উপমন্ত্রীও করেন “পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের।” একজন খুনিকে দলে নেওয়াই, এবং মন্ত্রী করাই এই নিয়ে ভূষণছড়া গণহত্যায় শহীদ হওয়া পরিবারগুলোর সদস্যরা এখনো ক্ষোভে ফুঁসে আছে। গত সংসদ নির্বাচনেও হাজারো বাঙালি খুনি মণি স্বপন দেওয়ান-কে বিএনপি আবারো পুনরায় রাঙামাটি আসন থেকে মনোনয়ন প্রদান করে!

ভূষণছড়া গণহত্যা সম্পর্কে বিভিন্ন লেখক বিভিন্নভাবে বর্ণনা দিলেও মূলত একজন লেখকের লেখায় কিছুটা হলেও বাস্তবতা ওঠে এসেছে। সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও নৃশংসতার বিবরণ ওঠে এসেছে তার লেখা পার্বত্য বিষয়ক বই গুলোতেই। বলছিলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আতিকুর রহমানের কথা। আতিকুর রহমানের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক যে কয়টি বই আছে তার সবকয়টি বইতে মোটামুটিভাবে এখানকার চরম বাস্তবতা ফুটে উঠেছে।
তিনি দীর্ঘদিন পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং শুধুমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের উপরেই যার ১১টির উপরে বই আছে। পার্বত্য তথ্য কোষ, তৃতীয় খণ্ড ও সপ্তম খণ্ডে ভূষণছড়া গণহত্যার উপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ১ ও ২ তিনি এই গণহত্যার মর্মন্তুদ ও হৃদয়বিদারক চিত্র তুলে ধরেছেন। তবে তার প্রতিটি বইয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। পার্বত্য বিষয়ে লিখতে হলে, তথ্য সোর্স হিসেবে তাকে ব্যবহার করা ছাড়া বিকল্প সুযোগ নেই।

‘‘কলা বন্যা, গোরস্থান, ভূষণছড়া, হরিণা হয়ে ঠেগামুখ সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এই বিরাট এলাকা জুড়ে সন্ধ্যা থেকে আপতিত হয় ভয়াল নিস্তদ্ধতা। কুকুর শিয়ালেরও সাড়া শব্দ নেই। আর্মি, বিডিআর, ভিডিপি সদস্যরাও ক্যাম্পে বন্দি। কারণ তৎকালীন তথাকথিত শান্তিবাহিনীর ভয়ে সন্ধ্যা নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে সবাই ক্যাম্প ওঠে যেতো। সেদিন হঠাৎ অতর্কিতে বাহির দিক থেকে ধ্বনিত হয়ে উঠল ঐ গুলির শব্দটি।
তৎপরই ঘটনাবলীর শুরু। চুতর্দিকে ঘর-বাড়ীতে আগুন লেলিহান হয়ে উঠতে লাগল। উত্থিত হতে লাগল আহত নিহত অনেক লোকের ভয়াল চিৎকার এবং তৎসঙ্গে গুলির আওয়াজ , জ্বলন্ত গৃহের বাঁশ ফোটার শব্দ, আর আক্রমণকারীদের উল্লাস মূখর হ্রেসা ধ্বনি। এভাবে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, আর্তচিৎকার ও উল্লাসের ভিতর এক দীর্ঘ গজবি রাতের আগমন ও যাপনের শুরু। চিৎকার, আহাজারী ও মাতমের ভিতর সুর্যোদয়ে জেগে উঠলো পর্য্যুদস্ত জনপদ।
হতভাগা জীবিতরা আর্তনাদে ভরিয়ে তুললো গোটা পরিবেশ। অসংখ্য আহত ঘরে ও বাহিরে । লাশে লাশে ভরে আছে পোড়া ভিটা, পথ ঘাট ও পাড়া। সবাই ভীত বিহবল। এতো লাশ, এতো রক্ত আর এতো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, এক অর্ধরাতের ভিতর এলাকাটি বিরান।

অদৃষ্টপূর্ব নৃশংসতা। অভাবিত নিষ্ঠুরতা। ওয়ারলেসের মাধ্যমে এই ধ্বংসাত্মক দুর্ঘটনার কথা স্থানীয় বিডিআর ও আর্মি কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বমহলে অবহিত করেন। শুরু হয় কর্তৃপক্ষীয় দৌড়ঝাঁপ, আগমন ও পরিদর্শন । চললো লাশ কবরস্থ করার পালা ও ঘটনা লুকানোর প্রক্রিয়া।
ঘটনাটি যে কত ভয়াবহ, মর্মন্তুদ আর অমানবিক এবং শান্তিবাহিনী যে কত হিংস্র পাশবিক চরিত্র সম্পন্ন মানবতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক সংগঠন তা প্রচারের সুযোগটাও পরিহার করা হলো। খবর প্রচারের উপর জারি করা হলো নিষেধাজ্ঞা। ভাবা হলো: জাতীয়ভাবে ঘটনাটি বিক্ষোভ ও উৎপাতের সূচনা ঘটাবে। দেশ জুড়ে উপজাতীয়রা হবে বিপন্ন।

ঘটনার ভয়াবহতা আর সরকারী নিস্ক্রিয়তায় ভীত সস্ত্রস্ত অনেক বাঙালিই স্থান ত্যাগ করে পালালো। পলাতকদের ঠেকাতে পথে ঘাটে, লঞ্চে, গাড়িতে, নৌকা ও সাম্পানে চললো তল্লাশী ও আটকের প্রক্রিয়া। তবু নিহত আর পলাতকরা মিলে সংখ্যার প্রায় অর্ধেকই হলো ঐ জনপদ থেকে লাপাত্তা। শুরু হলো জীবিতদের মাধ্যমে লাশ টানা ও কবরস্থ করার তোড়জোড়। খাবার নেই, পরার নেই, মাথা গোঁজার ঠাই নেই, চারিদিকে কেবল পঁচা লাশের দুর্গন্ধ, পালাবারও পথ নেই। নিরুপায় জীবিতরা। লাশ গোজানো ছাড়া করার কিছু নেই । দয়া পরবশ কর্তৃপক্ষ, কিছু আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে এলেন। এটাকে দয়া বলা ছাড়া উপায় কি?”

“ ভূষণ ছড়া গণহত্যা পরিদর্শনে প্রেসিডেন্ট এরশাদ স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন। বরকল ওসি শামসুর রহমান, রাঙামাটি এসপি, ডিসি, রাঙামাটি ব্রিগেডিয়ার আনোয়ার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জিওসি ইত্যাদি কর্মকর্তারাও হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। কিন্তু সবাই তৎপর ছিলেন ঘটনাটি দামাচাপা দিতে ও লাশ লুকাতে।
কয়েকদিন যাবৎ একটানা গণকবর রচনার প্রক্রিয়া চলেছে। তজ্জন্য জীবিত বাঙালিদের আহার, নিদ্রা ও বিশ্রামের ফুরসত ছিলো না। গর্তে গর্তে গণকবর রচনা করে, একেক সাথে ৩০/৪০টি লাশকে চাপা দেয়া হয়েছে। এভাবে লোকালয়গুলো পচা লাশ ও দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত হলেও, পাহাড়ে ও বনে অবস্থিত বিক্ষিপ্ত লাশগুলো দাফন কাফনহীন অবস্থায় পচতে থাকে ও শিয়াল কুকুরের খাদ্য হয়। দুর্গত পরিবারগুলো পোড়া ভিটায় খাদ্য ও আচ্ছাদনহীন দিনযাপনে বাধ্য হয়।”

ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সাহায্য নিয়ে, তিনি মোট ৩৭০ জন নিহত ব্যক্তির তালিকা উক্ত বইয়ে সন্নিবেশিত করেছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন যে, গুরুতর আহত ৮৫ জনকে চিকিৎসার জন্যে চট্টগ্রামের সিএমএইচে পাঠানো হয়েছিল ব্রিগেড কমান্ডার আনোয়ারের নির্দেশে।( পার্বত্য কোষ, তৃতীয় খণ্ড ও সপ্তম খণ্ড আতিকুর রহমান, প্রকাশ ২০০৭

আতিকুর রহমান ৩৭০ জন পর্যন্ত নিহত হওয়ার বিষয়টি তার লেখায় বর্ণনা করেন।
কিন্তু স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণামতে নিহতদের সংখ্যা কমপক্ষে ১ হাজারের অধিক হবে৷ কারণ ঐ সময় পূর্নবাসিত ১৬০০ পরিবারের মধ্যে ৩০০ পরিবারের উপর হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা হয়। প্রতি পরিবারের নূন্যতম ৪ (চার) জন করে সদস্য হিসাব করলেও ১২০০ জন হয় সদস্য। ধারণা করা হয় নিহতের সংখ্যা হাজারের অধিক হবে।

প্রথম সাংবাদিক হিসেবে ভূষণছড়া গণহত্যা রহস্যের উন্মোচন করতে গোপনে বরকল প্রবেশ করেন, সাংবাদিক সৈয়দ মুরতজা আলী-

১৯৮৪ সালের ৩ জুন, ঘটনার ৩ দিনের মাথায় তিনি প্রথম সাংবাদিক হিসেবে সৈয়দ মুরতজা আলী ঘটনার স্থান এলাকায় পরিদর্শনে যান।
১৯৯৬ সালে প্রকাশিত ‘দি হিচ ইন দি হিলস’ বইয়ে সৈয়দ মুরতজা আলী তার সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। রাস্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ ভূষণছড়ার গণহত্যার ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রচার করতে চাচ্ছিলেন না, তাই কোন সংবাদকর্মী বরকল যাওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগও ছিল না।
কাগজ, কলম, মিনি রেকর্ডার আর কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পলিথিনে পেঁচিয়ে নৌকার পাটাতনের তলায় লুকিয়ে, তিনি জেলের ছদ্মবেশে ময়লা গেঞ্জি আর ছেড়া লুঙ্গি পরে গিয়েছিলেন। রাঙামাটি কাপ্তাই লেকের জায়গায় জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে এছাড়া আর ভালো পরিবেশে যাওয়ার আর কোন উপায় ছিল না। তিনি যেদিন পৌঁছেছিলেন, সেদিন সেখানে তিনটি হেলিকপ্টার এসেছিল। যার একটাতে ছিলেন, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ।

ঘটনার ৩ দিন পরে গিয়েও তিনি অনেক মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। এগুলো পড়ে ছিল, কারণ এগুলোর দাফন কার্যের জন্যে কোন নিকটজনকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আব্দুল করিম নামের ৬৮ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, “সেহেরী খেয়ে লোকজন তখনো একটু ঘুমের জন্য বিছানায়, এমন সময় হঠাৎ গুলির শব্দ চারপাশের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে খান খান করে দেয়। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই শান্তিবাহিনীর গুলি আর যুদ্ধের হুংকার শুনতে পেল তারা। শান্তি বাহিনীর গুলি বিদীর্ণ করে দেয় ভয়ে কম্পমান এমনকি পলায়নরত বাঙ্গালীদেরকেও। অনেক বাঙালিকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে, আবার অনেকের মস্তক বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। এমনকি, শিশুদেরকে হত্যার জন্যে টেনে টুকরো করে ফেলে পর্যন্ত।”

বীভৎস আর লোমহর্ষক কিছু দৃশ্যের বর্ণনার পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন যে, ৩৪ জন নারী, ২৬ জন শিশুসহ ঐ ঘটনায় ১২০ জনকে হত্যা করা হয়, আহত হয়েছিল প্রায় ২০০ জনের মত। তখন পর্যন্ত ৩৫ জন নিখোঁজ ছিল। প্রস্থানের পূর্ব মুহূর্তে, শান্তি বাহিনী বাঙ্গালীদের বাড়ীঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে যায়, ফলে ২০০ পরিবার গৃহহীন হয়ে পরে। অগণিত গৃহপালিত পশু-পাখি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। (সৈয়দ মুরতজা আলী, দি হিচ ইন দি হিলস, প্রকাশ ১৯৯৬

গণহত্যা রচিতাকারী তথাকথিত শান্তিবাহিনীর সন্ত্রাসীদের বিচার দাবি করে তৎকালীন বিভিন্ন বাধা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে পার্বত্য বাঙালিরা লাশ নিয়ে মিছিল মেটিংও করে কিন্তু কোন লাভ হয়নি। রাস্ট্রীয় পক্ষ হতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করাই হয়নি৷ ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে গণহত্যাকারী উপজাতি সন্ত্রাসীদের দায়মুক্তি দেয় সরকার। এর ফলে নিহত বাঙালি পরিবারগুলোর মধ্যে বেঁচে থাকা বাঙালিদের সাহায্য সহযোগিতারও পথ বন্ধ হয়ে যায়। বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। এভাবে দামাচাপা পড়ে যায় পুরো ঘটনা, এবং কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে ১৯৮৪ সালের ৩১ মে, ভূষণছড়া গণহত্যার ইতিহাস৷ যদিও ভূষণছড়া এলাকাবাসী এখনো বছর বছর নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল আয়োজন করে থাকে। কিন্তু এটা যথার্থ নয়। হয়তো ভবিষ্যতে এটাও বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, রাস্ট্রীয়ভাবে ভূষণছড়া গণহত্যা নিয়ে সক্রিয় কেউ নেই। এবার যদি কেউ তুলে ধরে ভূষণছড়া গণহত্যার প্রকৃত বাস্তবিক ইতিহাস তাহলে এদেশের মানুষ জানবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি নিধনের নৃশংস সেই ভয়াবহতা।

মতামত

x