Home / মুক্তমত / হীন্য ও নোংরা মানসিকতার অধিকারী অধিকাংশ উপজাতি উশৃংখল যুবকরা।

হীন্য ও নোংরা মানসিকতার অধিকারী অধিকাংশ উপজাতি উশৃংখল যুবকরা।

আজ থেকে ঠিক ৭ বছর আগেরকার কথা। ২০১৩ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত সময়ে অর্জন করা কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা কথা আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব-
চট্টগ্রাম চকবাজার ওর্দু গলি অনেকেই হয়তো চেনেন। ওইখানে ভাড়া থাকতেন পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার শান্তিপুর নামক প্রত্যান্ত এলাকার নিপন চাকমা সহ ৩জন উপজাতি যুবক৷ তাদের মধ্যে অন্যতম একজন নিপন চাকমা, তার আনুমানিক বয়স ছিল প্রায় (২৩)। চট্টগ্রাম কলেজে মাস্টার্স (Master’s) এ অধ্যায়নরত সেছিল সেও তার বন্ধুরা। চকবাজার ওর্দু গলি হাসেম জমিদারের বাসায় ভাড়া থাকতেন তারা। তাদের থেকে ৭ (সাত) মাসের ২৮’০০০ (আটাশ হাজার টাকা) বকেয়া বাসা ভাড়া পাওনা ছিলো হাসেম জমিদার। তাই জমিদার বাধ্য হয়ে এপ্রিল মাসের ১৭ তারিখ আগাম সতর্কসংকেত জানানোর মধ্য দিয়ে নিপন চাকমা ও তার বন্ধুদের তার বাসা ছেড়ে দেয়ার জোর তাগিদ দেন, এবং বকেয়া পরিশোধ করতে বলেন৷ নিপন চাকমাদের আর আমার রুম পাশাপাশি ছিল। ওইদিন বাসার জমিদার আমাকে স্বাক্ষী করেন, যেনো নিপুন চাকমা মাস শেষে বাসা ছেড়ে দেয়। একথা বলে জমিদার চলে যান।

এদিকে এপ্রিল মাস শেষ হওয়ার পর ১-লা মে, জমিদার এসে নিপুন চাকমাদের বকেয়া বাসা ভাড়া দিতে বলেন, আর যদি ভাড়া দিতে না পারেন তাহলে তাদেরকে সবাইকে বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলেন। কিন্তু নিপন চাকমা অসহায় কণ্ঠে বলেন, আংকেল আমাদের কাছে এখন টাকা নেই, বাড়ি থেকে টাকা পাঠাইনি অনেকদিন ধরে। আমাদের আর ২ মাস সময় দেন, আমরা আপনার সব টাকা পরিশোধ করে দেব। কিন্তু জমিদার, এবং তার ছেলে একদম নাছোড়বান্দা। তারা এসব আর শুনতে চান না আর মানতে চান না। তারা একদিনও আর সময় দিতে চান না। তারা নিপন চাকমাদের বলেন, ১ ঘন্টার মধ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য৷ যদি বের না হয় তাহলে লোকজন দিয়ে তাদের বের করতে বাধ্য হবেন…।

যেহেতু নিপন চাকমাদের আর আমার রুম পাশাপাশি তাই তাদের সাথে জমিদারের কথা-কাটাকাটি আমি শুনতে পাই। জমিদার উত্তেজিতহয়ে খুবি বিশ্রীভাবে উপজাতিদের জাতিগত অভ্যাস নিয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। নিরুপায় হইয়ে নিপন চাকমা আমার কাছে এসে কান্নাকাটি শুরু করে। আর আমাকে বলতে থাকেন, ফরহাদ দাদা শুনেছেন? ‘জমিদার আংকেল আমাদের জাতিগত অভ্যাস নিয়ে কীভাবে গালিগালাজ করছে!
আপনি একটু আমাদের সাহায্য করেন, ‘জমিদার আংকেলকে সুপারিশ করেন যাতে আমাদের আর দু’মাস সময় দেন ‘।
তাদের কথা শুনে আমি বললাম, এখানে আমিও তাদের মত একজন ভাড়াটিয়া, আমার কথা জমিদার রাখার কথা নয়। তারা কোন উপায় না পেয়ে আমার হাত পা ধরে অনুনয় বিনয় করে আবার বলেন, “তাদের জন্য আমি সুপারিশ করতাম, জমিদার যদি সুপারিশ না মানেন তাহলে আমি যেনো তাদের বকেয়া ভাড়া গুলো পরিশোধ করে দিয়!”
তারা নাকি আমাকে দু’মাস পর টাকা গুলো দিয়ে দিবে৷ কী করবো ভেবে পাচ্ছি না। তাদের এমন অসহায়ত্ব দেখে নিজ থেকে তাদের কথামতো ২৮ হাজার টাকা জমিদার-কে দিয়ে তাদের মহাবিপদ থেকে রক্ষা করলাম। জমিদার আমাকে লক্ষ্য করে বলেন, পরবর্তী হতে প্রতিমাসের ভাড়া প্রতিমাসের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এমন তাগিদ দিয়ে তিনি ও তার ছেলে চলে যান।

এই ঘটনার পূর্বে এতোদিন উপজাতি ছেলেরা আমার বাসায় কোন প্রয়োজন ছাড়া তেমন আসা যাওয়া করতেন না।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল- তারা সবসময় বাঙালিদের সঙ্গে কথাবার্তা লিমিট বজায় রেখে বলতেন। প্রয়োজন ছাড়া বাঙালিদের সঙ্গে পারত পক্ষে কথা বলতেন না! কিন্তু তাদের ৭ মাসের বকেয়া ভাড়া আমি জমিদার-কে পরিশোধ করার পর থেকে তারা আমার সঙ্গে কথা, এবং মেলামেশা শুরু করেন। অবাক বিষয় হল- তারা তাদের রুমে ভালো কিছু রান্না করলে আমাকে নিমন্ত্রণ করতেন! আবার সবসময় আমার বাসায় এসে আড্ডা দিতেন, খাওয়াদাওয়াও করতেন। রান্নার সময় কোনকিছু তাদের কাছে না থাকলে তার প্রয়োজন পড়লে আমার থেকে নিতো। আমিও তাদের কোন কিছুর প্রয়োজন হলে দিতাম, কারণ তারা ছাত্র মানুষ, ইনকাম নেই টাকা কোথায় পাবে? কীভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র ক্রয় করবে? এমন প্রশ্ন ও চিন্তা ধারা আমার মধ্যে সবসময় ছিলো।

এভাবে গভীর হয়ে তাদের সঙ্গে আমার দুই মাস কেটে গেল। কিন্তু তারা তাদের দেওয়া কথা রাখেন নি! জমিদার-কে যখন আমি তাদের বকেয়া বাসা ভাড়া পরিশোধ করি তখন তারা জোর গলায় বলেছিলো দু’মাস পর আমার টাকা দিয়ে দিবে কিন্তু তারা আজও দেয়নি সে টাকা। দেওয়ার মতো তাদের মনোভাবও লক্ষ্য করা যায় না!
আমি তাদের এক উপজাতি ছেলে থেকে জানতে পারলাম, “তাদের মা-বাবা অনেক কষ্ট করে নিজেরা ঠিকমত না খেয়ে মাসে মাসে তাদের জন্য পড়াশোনার খরচ, বাসা ভাড়া ও খাওয়াদাওয়ার খরচ হিসেবে মাসে মাসেই টাকা পাঠান।” পরিতাপের বিষয় হল- তারা সে টাকা পাঠানোর কথা আমাকে জানান না, এবং ঠিকঠাক মতো বাসা ভাড়াও পরিশোধ করেন না! আরো জানতে পারলাম,
মাতা-পিতা পাঠানো টাকা নাকি তারা আড্ডায় ও মেয়ের পেছনে, এবং বিভিন্ন জায়গা গিয়ে নষ্ট করেন! মদ-গাঁজাও সেবন করেন তারা। আর মদ নাকি তারা সংস্কৃতি ও জাতির ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে অবাধে খেয়ে থাকেন হরহামেশাই। কথাগুলো শুনে খুবই দুঃখ লাগলো।

একদিন তাদের সবাইকে ডেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তাদের কী খবর? আমার টাকা দিতে পারবে কি না??? তারা জানালো এখনো দিতে পারবে না, তাদের বাড়ি থেকে টাকা পাঠাননি। তারা খুবি গরীব হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান৷ পিতা-মাতা পাহাড়ে জুমচাষ করে কোনভাবেই চলেন। এখন মাঝেমধ্যে তাদের জন্য যে পরিমাণ টাকা পাঠান সে পরিমাণ টাকা দিয়ে ঠিকমত মাসিক বাজারও হয়না। তাদের এমন অসহায় আত্মসমর্থন, এবং হৃদয় নিংড়ানো কথা শুনে তাদের প্রতি আমার করুণা হলো। টাকার প্রসঙ্গে তাদের আর কখনো কিছু বললাম না। এভাবে সময় অতিবাহিত হচ্ছে আর এদিকে তাদের আমার রুমে আসা যাওয়া আগের চেয়ে বাড়ছে৷

একদিন নিপন চাকমার গ্রাম থেকে রুপা চাকমা নামে এক যুবতী মেয়ে তার মা-কে নিয়ে চট্টগ্রাম চকবাজার মেডিকেলে ভর্তি হন। ১৫ দিন ধরে মেডিকেলে ভর্তি। ভালো বুঝদার পুরুষ অভিভাবক না থাকায় ঠিকমতো ঔষধ কেনা সহ বিভিন্ন বিষয়ে রুপা চাকমা-কে সমস্যায় পড়তে হয়। একজন মেয়ে হিসেবেই দুর্গম এলাকা থেকে মায়ের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে এসে মেডিকেলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়া কতটা দুর্ভোগের, ঝুঁকিপূর্ণ, এবং কষ্টসাধ্য সেটা শুধু সে নিজেই বুঝতে পারে। অন্য কেউ এ দুর্ভোগ, ঝুঁকিপূর্ণতা ও কষ্ট বুঝতে পারার কথা না। আর আমাদের দেশের চিকিৎসা সেবা কেমন সেটা কারোরই অজানা থাকার কথা নয়। ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের ভাষা ব্যবহার টাকা না দিলে কতটা জঘন্য হতে পারে সেটাও কারোরই অজানা নয়।
এবার আসি মূল কথায়- নিপন চাকমা ও রুপা চাকমা একই গ্রামের বাসিন্দা। পুরুষ অভিভাবক না থাকার পরিপ্রেক্ষিতে বেলা ২ টার সময় নিপন চাকমার কাছে আসেন রুপা চাকমা। রুপা চাকমা যখন নিপন চাকমার বাসায় আসেন তখন নিপন ও কানন চাকমারা আমার রুমে। রুপা চাকমা সরাসরি আমার রুমে আসেন। এসেই
সে তার স্বজাতি যুবকদের জানান, “তার মা-কে নিয়ে সে ১৫ দিন ধরে চট্টগ্রাম চকবাজার মেডিকেলে ভর্তি। এখানে ভালো মানের চিকিৎসা সেবা নেই৷ ঠিকমতো ডাক্তার এসে দেখেনও না। নার্স ও স্টাফরা টাকা ছাড়া কোনকিছুই করেন না, সবসময় দুর্ব্যবহার করেন তারা। এবং ফার্মেসীগুলোতে প্রয়োজনীয় ঔষধ অনেক সময় খুঁজে পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে তাকে একটু সহযোগিতা করার জন্য নিপন চাকমার সাহায্য চান সে।” কারণ সে মেয়ে মানুষ চট্টগ্রাম শহর ভালো করে চিনেন না। এই প্রথম মায়ের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরে তার আসা। একজন পুরুষ অভিভাবক তার বড়ই প্রয়োজন। মূলত এই কারণে নিপন চাকমার বাসায় আসেন রুপা চাকমা। এর সুবাদে আমার সঙ্গে রুপা চাকমার পরিচয় হয়। রুপা চাকমা একজন সহজসরল প্রকৃতির শিক্ষিত উপজাতি মেয়ে৷ তার ভিতরে অহমিকা যেমন নেই তেমনি প্যাঁচও নেই৷ সবার সাথে হাসিমুখে সাদামাটাভাবে কথা বলেন৷ তার এতো সুন্দর রুপ থাকার স্বত্বেও তার কোন অহংকার নেই। মাতা-পিতার একজন আদর্শবান মেয়ে সে। নিজেকে অক্ষুণ্ণ রেখে মানুষদের কীভাবে সম্মান দিতে হয় সেটা তাকে তার পরিবার যথেষ্টই শিক্ষা দিয়েছে। এজন্য তার পরিবার শ্রদ্বা ও সম্মান পাওয়া যোগ্য।
সেদিন পরিচয়কালে তার সাথে প্রথম যখন কথা হয় তখন আমার কাছে মনে হলো তার সঙ্গে হাজার বছরের পরিচয়৷ এমনভাবে সেই আমার সাথে কথা বললো মনে হচ্ছে সে আমার পরিবারের কেউ কিংবা নিকট আত্মীয় কেউ। তার এই স্বাভাবিক আচরণটি উপস্থিতি উপজাতি ৩ জন যুবকের মধ্যে ২জন যুবক কোনভাবেই ভালো চোখে দেখেন নি৷ যখন আমার সঙ্গে খোলা মনে রুপা চাকমা কথা বলেছিলো তখন নিপন চাকমা ও কানন চাকমার মুখে কেমন জানি বিষন্নতার ছাপ স্পষ্ট ছিলো! সেদিন রুপা চাকমা আমার মোবাইল নাম্বার ও নাম নেন। কোন পরামর্শ, এবং সাহায্য প্রযোজন হলে আমাকে কল দিবে বলে জানান৷ বৈঠকে কথা শেষ করার পর বিকাল ৫টায় রুপা চাকমা নিপন চাকমা ও কানন চাকমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যায়, কিছু ঔষধ খোঁজার জন্য, এবং কিছু সমস্যা সমাধানের জন্য। যাওয়ার পর সেদিন রাত ১০ টায় নিপন চাকমা ও কানন চাকমা রুমে ফিরে আসেন। ওইদিন রাতে তাদের সাথে আর আমার দেখা হয়নি। আমি ভেবেছিলাম বাহির থেকে এসেছে, তাই ক্লান্ত, তাছাড়া এখন রাত বেশি, হয়তো আজ সেজন্য আমার সাথে দেখা করেনি। এরপর দু-তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও নিপন ও কানন আর আমার রুমে আসেনি। শুধু মাঝেমধ্যে কল্যাণ চাকমা আমার রুমে আসতো। এমনিতে তারা প্রায়শই রাত ৮ টার পর থেকে রাত ১২ পর্যন্ত আমার রুমে আড্ডায় বসতো৷ কারণ আমার রুমে টিভি ছিল সেজন্য তারা বেশি আসতো। এখন হঠাৎ তারা আমার রুমে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। প্রথমে আমি তাদের ব্যাপারটি বুঝতে পারিনি। এভাবে এক দেড়মাস কেটে যায়। একদিন ০১৫৫… এমন কোড সিরিয়ালের মোবাইল নাম্বার থেকে আমার নাম্বারে একটা কল আসে। আমি প্রথমে বিদেশি নাম্বার ভেবেছিলাম। কারণ তখনকার সময় টেলিটক এতটাই পরিচিত ছিল না। আমাকে ফোন করে নমস্কার দিয়ে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে কেমন আছি জানতে চায় রুপা চাকমা৷ আমি বললাম ভালো আছি, কিন্তু আপনি কেমন আছেন? এটা জানতে চাওয়ার পর মনে হলো কেমন জানি তার কন্ঠটা রোধ হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ সময় নিয়ে বললো ভাইয়া আমি ভালো নেই৷ বললাম কেন কী হয়েছে আপনার? সে বললো কিছু না ভাইয়া, আমি এমনিতে ভালো নেই৷ অথচ ওইদিন রুমে আসা রুপা চাকমা নামের মেয়েটির নিখুঁত প্রাণশক্তির কথা গুলো আজ বড়ই শক্তিহীন মনে হচ্ছে৷ এই নিয়ে আমার নিজের মনে কিছুটা খটকা লাগছিলো। তাই আবার জিজ্ঞেস করলাম, কেন ভালো নেই আপনি? আমাকে সংকোচ ছাড়া বলেন, কোন সমস্যা নেই। সে বললো ওইদিন আপনার রুমে যাওয়ার পর আপনার সঙ্গে অনেক কথা বলেছি, এবং আপনার মোবাইল নাম্বার ও নাম নিয়ে জীবনে সবচেয়ে বড় বেশি অপরাধ করে ফেলেছি ভাইয়া! যার খেসারত আমাকে এখন মূহুর্তে মূহুর্তে দিতে হচ্ছে! এটা শুনে আমি কিছুটা হতবাক হলাম। কারণ তার সঙ্গে ওইদিন এমন কোন খারাপ কথা বলা হয়নি যেটার কারণে তার জীবনে অন্ধকার নেমে আসবে। তার মায়ের চিকিৎসা ঘাটতি বিষয়ে তার স্বজাতিদের কাছে আসার পর আর তার সাথে আমার কোন যোগাযোগ হয়নি। সে কেন এমনটা বললো? এর আসল ঘটনা কী? তাকে খুবি অনুনয় বিনয় করে জিজ্ঞেস করলাম, তার মা কেমন আছে? এবং তার কী সমস্যা… ইত্যাদি বিষয়ে-
সে জানালো, “তার মা ভালো আছে এখন মোটামুটি। সেদিন সে আমার সঙ্গে কথা বলার কারণে, এবং আমার মোবাইল নাম্বার ও নাম নেয়ার কারণেই নাকি নিপন চাকমা, কানন চাকমা তাকে খুবি বেশি মারধর করেছে: এমনকি গ্রামের সবাই-কে ফোন করে বাঙালির সঙ্গে সম্পর্ক আছে বলে নানান বিশ্রী মিথ্যা কথা রটিয়ে দেয়। ফেসবুকে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেয় তাকে, গ্রামে এসে ধর্ষণের চেষ্টাও চালায়, তার পরিবার থেকে ৫ লাখ টাকা দাবি করে! বর্তমানে সামাজিকভাবে সে ও তার পরিবার মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হয়ে আসছে। কেউ তাদের সহযোগিতায় আসছেন না, কান্না কন্ঠে কথা গুলো বলছিলেন।”

একথা গুলো শুনে আমি আমার কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না সেদিন! রুপা চাকমা আরো জানান, উপজাতি সমাজে উপজাতি মেয়েরা বাঙালির সঙ্গে কথা, প্রেম কিংবা বিবাহ করা অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে৷ আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন, এবং তাদের অধিকারের সাইন বোর্ড ব্যবহার করে আত্মপ্রকাশ করা বেশকিছু সশস্ত্র সংগঠন ও তার সহযোগী ছাত্র সংগঠনগুলো বাঙালি ছেলেদের সঙ্গে পাহাড়ি মেয়েরা কথা, প্রেম কিংবা বিবাহ করলে হত্যা, নিলাম ও গণধর্ষণ পূর্বক সামাজিকভাবে বয়কটের ডাক দেয়া হয়। এ কথা শুনে আমার চোখ কপালে উঠলো! নানান কল্পনা জল্পনা শুরু হয়। সভ্যতার যুগেও কি উপজাতি নারী পরাধীন? স্বজাতির সন্ত্রাসী, এবং উশৃংখল যুবক কর্তৃক তারা মধ্যযুগী কায়দায় নির্যাতনের শিকার যেমন হচ্ছেন, তেমনিই লালসার শিকার হচ্ছেন। কোন দেশে বাস করছি আমরা? যে দেশে নারীকে পুরুষের সঙ্গে কথা বলার ঠুনকো অজুহাতে গণধর্ষণ পূর্বক হত্যা করা হয়?

জাত রক্ষার নামে, এবং তাদের দুর্বল পুরুষত্বের কথা গোপন করতে বাঙালী পুরুষদের সঙ্গে উপজাতি নারীদের কথা, প্রেম কিংবা বিবাহ নিষিদ্ধ করে রেখেছে৷ এবং তাদের এই আদেশ অমান্যকারী মেয়েদের গণধর্ষণ পূর্বক হত্যা করা হয়, কিংবা নিলামে তোলা হয়। এ থেকে স্পষ্ট যে, উপজাতি সন্ত্রাসীও তাদের উগ্রবাদী অনুসারীরা হীন্য ও নোংরা মানসিকতার অধিকারী। এ সন্ত্রাসী ও তাদের উগ্রবাদী উশৃংখল যুবকরা মেয়েদের স্বাধীনতার প্রতি চরম অন্যায় অবিচার করে থাকে।
হীন্য ও নোংরা মনের অধিকারী অধিকাংশ উপজাতি উশৃংখল যুবকরা বাঙালিকে মনে প্রাণে ঘৃণা করে থাকে। তারা তাদের দুর্বল পুরুষত্ব গোপন রাখতে উপজাতি যুবতীদের বাঙালির সঙ্গে মেলামেশা করতে দেন না বলে সূত্র মতে জানা যায়, এবং উপর্যুক্ত বিষয়াদি প্রমাণ করে। কথিত আছে, উপজাতি পুরুষদের মধ্যে ৯৬% পুরুষ মদ-গাঁজায় আসক্ত। তারা অকর্মা, সারাদিন মদ-গাঁজা ও জুয়া নিয়ে পড়ে থাকে আর নারীদের খাটিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখায়৷ উপজাতি নারীরা সারাদিন জ্বলে পুড়ে জুমে কাজ করে, ধান, আদা, হলুদ ও কলা সহ নানান পেশায় নিয়োজিত থাকে। অন্যদিকে অকর্মা উপজাতি পুরুষরা মদ-গাঁজা ও জুয়া নিয়ে পড়ে থেকে টাইমে টাইমে খাবার না ফেলে নারীদের মারধর করে থাকে৷

আমরা সমতলের বাঙালিরা পার্বত্য খাগড়াছড়ি রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান অঞ্চল থেকে আগত উপজাতিদের সহজ সরল মনে করি। আরো মনে করি গরীব অসহায় হতদরিদ্র। কিন্তু তারা অধিকাংশ অসহায় ও গরীব হতদরিদ্র নয় তারা হচ্ছে হীন্য ও নোংরা মানসিকতার। তারা উগ্র স্বভাবের। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব স্বাধীনতাকে তারা অস্বীকার করে বাংলাদেশ ও তার বাঙালি জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়েছে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মধ্য দিয়ে সরকার তাদেরকে অনেকগুলো সুযোগ-সুবিধা দেয়ার পরেও তারা অবৈধ অস্ত্র ছেড়ে, এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কার্যকলাপে পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেনি! তারা এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অপহরণ, নারী ধর্ষণ ও খুনাখুনি করে সাধারণ উপজাতি-বাঙালিদের জনজীবন অতিষ্ঠ করে আসছে।

সহজ সরল ভেবে যে নিপন চাকমাদের এতোদিন সাহায্য করেছি সে নিপন চাকমারা অন্তরালে হীন্য ও নোংরা মানসিকতার পরিচয় বহন করে৷ অথচ তাদের বকেয়া বাসা ভাড়া ও নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসপত্র আমি দিয়েছি। যাদের নিয়ে কোনদিন জাতিগত ভেদাভেদ উপলব্ধি করিনি। তারা কীভাবে এমন নোংরা মানসিকতা চর্চা করে এটা আমার বোধগম্য নয়।

মাঝেমধ্যে দেখতাম উপজাতি মেয়েদের নিপন, কানন ও কল্যাণ চাকমারা বাসায় নিয়ে আসতেন। তারা রাতে মেয়েদের নিয়ে একসাথে ঘুমাতেন! সবাই এই নিয়ে তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা পাহাড়িরা ফ্রি মাইন্ডের বলতো। এটা তাদের সংস্কৃতির অংশ বলে বাঙালিদের বুঝ দিতেন!
প্রায়শই দেখা যেতো তারা মেয়েদের নিয়ে এসে মদ,গাঁজা, চানাচুর, গরু মাংস ও টাইগার খেয়ে সবাই একসাথে গান ধরতো, এবং সেক্স করতো৷ সকাল হলে ময়লার ঝুঁড়িতে কনডম পাওয়া যেত!!
মেয়েদের আসা যাওয়ার বিষয়টি প্রথম প্রথম সবাই স্বাভাবিক ভাবে নিলেও একদিন ঘটে অন্য এক কাণ্ড। সুস্মিতা চাকমা নামে এক উপজাতি মেয়ে বিবাহের বায়না ধরে রুম থেকে বের হতে অস্বীকৃতি জানান৷ ওই মেয়ের দাবি নিপন চাকমা তাকে বিবাহের কথা বলে ১ বছর ধরে ধর্ষণ করে আসছে। এখন তাকে পরিবারের পক্ষ থেকে অন্যত্র বিবাহ দিতে চায় কিন্তু সে নিপন চাকমা-কে ভালোবাসে, তাই তাকে বিবাহ করবে। এখন নিপন চাকমা তাকে বিবাহ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এই নিয়ে তাদের দু’জনের মধ্যে তুমুলঝগড়া লাগে। পাশেপাশের সব ভাড়াটিয়া, এবং স্থানীয়রা জড়ো হলো। একদম বিশৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সবাই নিপন চাকমা-কে গণধোলাই দিতে চাইল। আমার কারণে সেদিন গণধোলাই থেকে রক্ষা পায় নিপন চাকমা৷ কোনভাবেই বুঝিয়েসুজিয়ে সুস্মিতা চাকমা-কে রুম থেকে বের করে দিয়ে সেদিন বিষয়টি শেষ করেছিলাম৷

একটা সময় বুঝতে পারলাম, উপজাতি ছেলেমেয়েদের মধ্যে সেক্স একটা স্বাভাবিক বিষয়। যাকে যার পছন্দ সে তার সাথে সেক্স করবেই। এতে দোষের কিছু নেই৷ উপজাতি ৩-৪ জন ছেলে একটা রুম ভাড়া নেয় সে রুমে বোন পরিচয় কিংবা এই সেই পরিচয় দিয়ে মেয়েদের এনে অবাধে সেক্স করে যায় তারা৷ পার্বত্য চট্টগ্রামের ৫৫% মেয়ে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সে মধ্যে সহপাঠীর সঙ্গে সেক্স করেন। ১৮% মেয়ে ১৬ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে কথিত বয়ফ্রেন্ড, এবং সহপাঠীর সঙ্গে সেক্স করেন। ১০% নারী স্বামী থাকা স্বত্বেও পরপুরুষের সঙ্গে সঙ্গমে মিলিত হন। ১২% উপজাতি মেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষিত হন স্বজাতি সন্ত্রাসী ও উশৃংখল মদ গাঁজাখোর যুবকদের হাতে। অবশিষ্ট ৫% উপজাতি মেয়ে বিবাহের আগে পরে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হন না কোনভাবেই।

এখানে উপজাতীয়দের মধ্যেই পারিবারিকভাবে যুবক-যুবতী একসাথে থাকতে কিংবা ঘুমানো কোনো বাধা-বিপত্তি নেই৷ তাই তাদের মধ্যে সেক্স একটি সাধারণ স্বাভাবিক বিষয়। তারা পাহাড়ে জঙ্গলে যেমন সেক্স করেন, তারা তেমনই ঢাকা-চট্টগ্রামেও সেক্স করেন। ধর্মীও বিধিবিধান বিরোধী এই অসামাজিক কার্যকলাপ সেক্সে তারা লিপ্ত হয়ে একজন পুরুষ ২০ থেকে ৫০ জন নারীর সঙ্গে সেক্স করেন, এবং একজন নারী ২০ থেকে ৫০ জন পুরুষের সঙ্গে সেক্স করেন। তারা অধিকও নারী-পুরুষ সেক্সে মিলিত হন। সামাজিক উৎস বৈসাবি (বিজু, সাংগ্রাই ও বৈসু) এবং ধর্মীও অনুষ্ঠান কঠিন চীবরদান সময় তারা রাতের আঁধারে যেখানে সুযোগ পান সেখানে সেক্সে মিলিত হন। তাছাড়া পাহাড়ে ভূমি অনুপাতে জনসংখ্যা অনেক কম, এক উপজাতি বাড়ি হতে অন্য উপজাতির বাড়ি অনেক দূরত্ব, এখানে সেক্স করলে কেউ কাউকে দেখে না। সেক্স করার মতো পাহাড়ে অনেক জায়গা রয়েছে। ধরা পড়ার মতো সম্ভাবনা একেবারে নেইই বললে চলে। তাই উপজাতি যুবক-যুবতী ও নারী-পুরুষ সেক্স করার মতো সুযোগ পেয়ে থাকেন। এই থেকে তারা “অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক সেক্স” যে যার সাথে ইচ্ছা সে তার সাথে করে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক গুলো উপজাতি যুবক-যুবতী ও নারী-পুরুষের সেক্স ভিডিও থেকে এটাই স্পষ্ট হয়।

উপজাতি সন্ত্রাসী ও তাদের উগ্রবাদী অনুসারী পুরুত্বহীন যুবকরা যদি উপজাতি মেয়েদের হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি সহ নানান বাধা না দিতেন তাহলে দলে দলে হাজার হাজার উপজাতি যুবতীরা বাঙালি যুবকদের জীবন সঙ্গী হিসেবে বেছে নিতেন৷ কারণ, বাঙালি যুবকরা মদ-গাঁজা খোর নয়, এবং অকর্মা নয়। বাঙালি যুবকরা চেহারা, এবং গঠনগত দিক দিয়ে অনেক লম্বা ও সম্মার্ট। সেদিন থেকে বাঙালি যুবকরা অনেক এগিয়ে। তাই স্বামী হিসেবে বাঙালি যুবকদের পেতে অধীর আগ্রহে উপজাতি যুবতীরা৷ পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে এই পর্যন্ত শতশত উপজাতি যুবতীরা বাঙালি যুবকদের হাত ধরে পালিয়ে সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করছেন। দু-তিন’টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে দেখা যায় অধিকাংশ উপজাতি যুবতীরা বাঙালি যুবকদের বিবাহ করে সুখে আছে।

সব উপজাতি খারাপ নয়, একটা সত্য স্বীকার করতে হবে। সাধারণ উপজাতি সহ ১০% উপজাতি নারী-পুরুষ তারা কোন জাতিগত ভেদাভেদ ও হিংসা কখনো চান না। তারা অত্যান্ত শান্তিপ্রিয়। তারা চায় সবাই সবার মতো শান্তিতে সম্প্রীতি বজায় রেখে চলুক। কিন্তু এতে বাধা উপজাতি সন্ত্রাসী ও তাদের মতাদর্শীরা।

লেখক: কিশোর মাহমুদ, চট্টগ্রাম থেকে।

মুক্তমত বিভাগের সকল লেখা লেখকের নিজেস্ব মতামত। এই লেখার সাথে হিল নিউজ বিডি সম্পাদকীয় নীতি এক নয়।

মতামত

x