Home / top / পাহাড়ে প্রথাগত আইনের নামে যে ঐতিহাসিক প্রতারণা চলছে তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

পাহাড়ে প্রথাগত আইনের নামে যে ঐতিহাসিক প্রতারণা চলছে তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

প্রথাগত আইন রাষ্ট্রীয় আইনের সাথে অনেক ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক। প্রথাগত আইনে লিখিত কোন নিয়ম না থাকায় সমাজের প্রভাবশালী মহল অনেক ক্ষেত্রে বিচারকার্য পরিচালনায় স্বজনপ্রীতি এবং দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না।

পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতিদের মধ্যে একদিকে চরম বিভাজন অন্যদিকে প্রথাগত আইনের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে সাধারণ জনগন প্রশাসনিক আশ্রয় গ্রহণ করতে সক্ষম হয় না।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় উপজাতি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ গুলো। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয় পার্বত্য বাঙালিরা। ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয় সাধারণ উপজাতিরাও।

এখন আসুন প্রথাগত আইনে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো কিভাবে লাভবান হয়, বাঙালিরা কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উপজাতিরা কতটুকু লাভবান কিংবা ক্ষতির সম্মূখীন হয় তা অতি সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করি।

প্রথাগত আইনে সন্ত্রাসীদের লাভবান হওয়ার কারণ:

সামাজিক, পারিবারিক এবং ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে উপজাতিরা সাধারণত চেয়ারম্যান, মেম্বার থানা কিংবা প্রশাসনিক দপ্তরে যেতে পারেনা প্রথাগত আইনের কারণে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উপজাতি সন্ত্রাসীরা সাধারণ জনগনের কাছ থেকে অর্থ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করেই চলছে নিয়মিত। হেডম্যান, কার্বারির মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা বিচারের নামে সাধারণ উপজাতিদের উপর অবৈধ ক্ষমতা প্রয়োগ করে পুরা উপজাতি সমাজকে জিম্মি করে রেখেছে। প্রথাগত আইন না থাকলে সন্ত্রাসীরা জনগনের উপর এ জুলুম অব্যাহত রাখতে পারতোনা।

প্রথাগত আইনে বাঙালির ক্ষতির সম্মূখীন হওয়ার কারণ:
এ আইনে পাহাড়ের বাঙালিরা ভূমি হারানোর আশংঙ্কায় থাকে নিয়মিত। বাঙালিদের রেজিস্টার করা জমিও যদি কোন উপজাতি দাবি করে এটা তার দাদার ভূমি ছিল তাহলে ভূমি কমিশন আপনার রেজিষ্ট্রি করা ভূমি তাকে দিয়ে দিলে আপনি কিছুই করতে পারবেন না। কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করা যাবেনা।
তাই বাঙালিরা সার্বক্ষণিক ভূমি হারানোর চিন্তায় পেরেশান থাকেন।

প্রথাগত আইনে উপজাতিরা কতটুকু লাভ ক্ষতির স্বীকার হয়:
সাধারণ উপজাতিরা এ আইনের মাধ্যমে শুধুমাত্র বাঙালিদের জমি কেড়ে নেয়া ছাড়া কোন লাভবান হচ্ছেনা। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দ্বারা নিয়মিত অত্যাচারের স্বীকার হচ্ছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারীরা।

পার্বত্য অঞ্চলের ১১টি উপজাতি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে শুধু বান্দরবান জেলার মারমা নারীরা সম্পত্তির উত্তরাধিকার পান। এ ছাড়া অন্য কোনো জনগোষ্ঠীর নারীরা মা-বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকার পান না। নারীরা অর্থনৈতিকভাবে অতিমাত্রায় পুরুষের ওপর নির্ভরশীল। বৈষম্য ও পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন নারীরা। আবার একই জনগোষ্ঠীর মধ্যেও অঞ্চলভেদে প্রথাগত আইন ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হওয়ায় নারীদের বঞ্চনার মাত্রা বেড়েছে। বৈষম্য ও বঞ্চনা দূর করার জন্য প্রথাগত আইন বাতিল চায় উপজাতি নারীরা।
সার্বিক পরিস্তিতি বিবেচনা করে পাহাড় থেকে প্রথাগত আইন বাতিল করা খুবই জরুরি।

মতামত

x