||তাপস কুমার পাল, রাঙ্গামাটি||

অর্থনৈতিক দুরবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে পাহাড়ের বাঙালিরা!! পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আর্জি।

পাহাড়ে উপজাতিদেরকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বললেও মূলত বাঙালিরাই পার্বত্য চট্টগ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী।
গতকাল এক উপজাতি দোকানে চা খেতে বসলে দোকানটার মুরুব্বি অনেক গর্বের সাথে বলতেছে উপজাতি সমাজে আর কোন পিছিয়ে পড়া লোক নাই।
প্রত্যেক ঘরে ঘরে কলেজ/ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী রয়েছে। অধিকাংশ ঘরে সরকারি চাকরিজীবি রয়েছে। এনজিও সংস্থা গুলো উপজাতিদের অগ্রাধিকার ভিক্তিতে চাকরিতে প্রবেশের বিধান রেখেছে।সরকারি কোটা সুবিধাতো আছেই।
উপজাতি মুরুব্বি দোকানদারের ভাষ্যমতে কমপক্ষে ৯৮% পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টীরা শিক্ষিত।দোকানদার মুরুব্বিও শিক্ষিত। তিনি একটা সরকারি চাকরি থেকে কয়েক বছর আগে অবসরে গিয়েছেন।
যখন উপজাতিরা নিজেই স্বীকার করে নিচ্ছে তারা আর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী না।পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচয় বহন করতে অনেক উপজাতিরা এখন ইতস্তবোধ করে।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে যারা নিজেরা নিজেদেরকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে বলতে লজ্জাবোধ করে তাদেরকে কেন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে সরকার সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে???
পাহাড়ের প্রকৃত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হচ্ছে বাঙালিরা।পাহাড়ের বাঙালিদের মধ্যে অধিকাংশই এখনো দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে। ১০%বাঙালি শিক্ষার্থী হবেনা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দায় পা রাখতে পেরেছে।
দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থান করা বাঙালি শিশু কিশোররা স্কুলে যেতে পারেনা অর্থের অভাবে।অধিকাংশ বাঙালি শিশু/কিশোরেরা পাহাড়ের বাশ, গাছ এবং মাছ ধরে পরিবারকে আর্থিক অনটন লাঘব করার বৃথা চেষ্টায় মত্ত থাকে। সেখানেও আবার উপজাতি সন্ত্রাসীদের দিতে হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা।
পাহাড়ে দৃশ্যমান যত বাঙালিদের ব্যাবসা বাণিজ্য রয়েছে তার মালিকানা মূলত সমতলের লোকদের।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে পাহাড়ে অসংখ্য খাস জমি থাকলেও এখানকার অনেক বাঙালি ভূমিহীন। সরকার চাইলেই তাদেরকে নির্দিষ্ট কিছু ভুমি দান করে যাযাবর জীবনের অবসান ঘটাতে পারে।
আর গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দাদেরতো সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে ভূমিহীন করে রেখেছে।
এমতাবস্থায় পার্বত্য এলাকার বাঙালিদের ভূলুণ্ঠিত মানবাধিকার ফিরিয়ে দিতে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
*পাহাড়ের বাঙালিদেরকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরিতে উপজাতি কোটা বাতিল করে পার্বত্য কোটা চালু করতে হবে।
*গুচ্ছ গ্রামের বন্দিশালা থেকে হাজার হাজার বাঙালিদেরকে মুক্ত করে তাদের নিজস্ব ভূমিতে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
*পাহাড়ের স্থায়ী বাঙালিদেরকে উপজাতিদের মত ব্যাবসা বাণিজ্যে ভ্যাট মুক্ত করে দিতে হবে।
*এনজিও সংস্থা গুলোর প্রতি নির্দেশনা জারি করতে হবে পাহাড়ের প্রত্যেকটা চাকরিতে উপজাতি এবং বাঙালিদের মধ্যে সমতা তৈরি করতে হবে।

By admin

মতামত

x