হান্নান সরকার

আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে সমস্যা কোথায় এবং বিতর্কিত সংসদীয় ককাসের উদ্দেশ্য নিয়ে এই লেখায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে।

২০০৭ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক আদিবাসী বিষয়য়ক ঘোষণাপত্রের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ হতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনি এমপি সংবাদসম্মেলন করে বিদেশী কূটনীতিক, এনজিও, দাতাসংস্থা ও মিশনারীদের পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, এদেশে কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস নেই। যারা আছেন, তারা সবাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা উপজাতি। এদেশের উপজাতিরা সবাই পার্শ্ববর্তী দেশগুলো হতে বিভিন্ন সময় এদেশে আগমণ করেছে। আদিবাসী ঘোষণাপত্রের সংজ্ঞা অনুযায়ী তারা কেউ এদেশের ভূমিপত্র নয়। তারপরও এই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী/উপজাতিকে আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির জন্য বারবার ষড়যন্ত্র করে আসছে দেশের ভিতরের ঘাপটি মেরে বসে থাকা বামদলগুলো। তারা সবসময় দেশের বিরোধিতা করে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে দেশভাগের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ, এই দেশেই যদি আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় তাহলে ছোট এই দেশটিকে স্বায়ত্তশাসনের অধিকার হিসেবে ৪৫ টি প্রদেশে পৃথক করতে হবে। কারণ ২০০৭ সালের জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার হিসেবে আইএলও কনভেনশন ১০৭ ও ১৬৯ প্রনয়ন করেছে। বস্তুত তা একটি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব দেশের ভূখণ্ডের জন্য হুমকি স্বরূপ। ঘোষণাপত্রে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সামাজিক-রাজনৈতিক, স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা ও বেশকিছু অধিকার সহ আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার দিয়েছে। এর মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার, খুবি মারাত্মক৷ আদিবাসী জনগোষ্ঠী চাইলে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার হিসেবে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করতে পারবে৷ এই বিষয়ে তাদেরকে জাতিসংঘ সবধরনের সহযোগিতা করবে৷ এখন যদি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি উপজাতি ও এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা উপজাতি সহ সর্বমোট ৪৫টি উপজাতিকে আদিবাসী হিসেবেই সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়। তাহলে তারা প্রথমে স্বায়ত্তশাসনের অংশ হিসেবে ছোট একটি দেশে ৪৫টি প্রদেশ সৃষ্টি করবে। রাজনৈতিক অধিকার চাইবে তারপর আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার বলেই বাংলাদেশের সঙ্গে না থেকে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য জাতিসংঘের সহযোগীতা চেয়েই বসবে। এইভাবে তারা ঠিক একসময় বাংলাদেশকে দ্বিখণ্ডিত করে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করবে। তাই সময় থাকতে সাবধান। তাদেরকে কোনভাবেই আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না। আর তারা কেউ দেশের আদিবাসীও নয়। তারা যদি এই দেশের আদি বাসিন্দা হয়ে থাকে তাহলে বাঙ্গালীরা বা কী???

আজকে আমার দেশের যেসকল বাম ঘরনার এমপিরা উপজাতিদের আদিবাসী হিসেবে আখ্যায়িত করে সাংবিধানিক স্বীকৃতির জন্য জোরদাবি তুলছে, নিঃসন্দেহে বলা যায় তারা সকলেই দেশভাগের সবকিছুই জেনে বুঝে করছে। বস্তুত তারা দেশদ্রোহী, দেশভাগের জন্য মূলত আন্তর্জাতি ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী, এনজিও, মিশনারী ও দাতাসংস্থাগুলোর এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে। বাংলাদেশ সংবিধানের ২৩ (ক) অনুযায়ী তারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা উপজাতি হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতেও উপজাতি জনগোষ্ঠীর নেতা সন্তু লারমা চুক্তির দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে উপজাতি হিসেবে চুক্তি সম্পাদিত করেছে। অথচ আজ তারা নিজেদের আদিবাসী হিসেবে দাবি করছে! সুযোগ সুবিধা-সুবিধা ভোগ করছে উপজাতি কোটায় আর নিজেদেরকে দাবি করে আদিবাসী। যা গভীর ষড়যন্ত্রের আভাসও বটেই।

এই দেশের তথাকথিত প্রগতিশীল, মুক্তমনা ও বামদলগুলো শুধু আদিবাসী স্বীকৃতির ষড়যন্ত্র নিয়ে থেমে থাকেনি। তারা বাংলাদেশ বিরোধী পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর মুখপাত্র ও কূটনীতিক তৎপরতার বাহক হিসেবে তাদের অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ধর্ষণ, খুন-গুম ও রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক কর্মকাণ্ডের মদদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। যা খুবি দুঃখজনক৷ পরিতাপের বিষয় যে, এদের মতো দেশবিরোধী অপশক্তি কীভাবে সংসদ সদস্য হয়! তারা সংসদীয় ককাস নাম দিলেও তাদের কার্যক্রম নিয়ে বিগত বছরগুলোতে নানান বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ নয়। দেশবিরোধী গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন মূলত তাদের আসল কাজ। আর তারা সংসদীয় ককাসে যেসব এমপি’দের রেখেছে তারা অধিকাংশই বিতর্ক৷ তাদের নামে রয়েছে নানান অভিযোগ।। বিদেশী কূটনীতিক, এনজিও, দাতাসংস্থা ও মিশনারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের এতো সখ্যতা কীসের? এই থেকে বুঝা যায় তারা কোন নীল নকশা বাস্তবায়নে হাঁটছে। সুতারাং তাদের বর্তমান কার্যক্রমের উপর রাষ্ট্রের উচিত গোয়েন্দা নজরদারি করা। কারণ এরা বাংলাদেশেকে ভাগ করার মত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত৷ এরা কখনো দেশের কল্যাণে কাজ করেনি। তাই তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।

আদিবাসী স্বীকৃতির দাবিতে তাদের দাবি ও বক্তব্য পাঠকমণ্ডলীর জ্ঞাতার্থে তুলে ধরা হলো-

গত ১১ জানুয়ারী (মঙ্গলবার) ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান হলে কথিত “আদিবাসীর অধিকার: বাংলাদেশের আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় আইএলও কনভেনশন ১০৭ ও ১৬৯-এর ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি জানায়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কথিত আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাসের প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান উপদেষ্টা ও বামপন্থী রাশেদ খান মেনন এমপি এবং সঞ্চালনা করেন কথিত আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাস-এর টেকনোক্র্যাট সদস্য মিজ. জান্নাত-এ-ফেরদৌসী।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সভাপতির বক্তব্যে দেশ বিরোধী অপশক্তির অন্যতম হোতা রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, আদিবাসীদের অধিকারের জন্য বাংলাদেশ- সংবিধানই যথেষ্ঠ, আইএলও-এর অনুবিধান অনুস্বাক্ষর করেও সেটা বাস্তবায়ন করছেনা, তাহলে অনুস্বাক্ষর করার দরকার কি ছিল? এই বিরোধীতা বন্ধ হওয়া দরকার।

প্রধান আলোচক হিসেবে সাংসদ র,আ,ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি বলেন, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান আমরা যার যার ধর্মের বাহিরে গিয়ে ভাবতে পারিনা, এই বাঁধাটা ভাঙার ব্যবস্থা করতে হবে।

সংহতি বক্তব্যে ককাসের টেকনোক্র্যাট সদস্য ও সমন্বয়ক জ্ঞানপাপী অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময় যে ১০৭ কনভেনশন অনুস্বাক্ষর করা

By admin

মতামত

x