Home / অপরাধ / বৌদ্ধ ধর্ম ছেড়ে পাহাড়ি তরুণী মুসলিম বিবাহ করায়, ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী কর্তৃক অপহরণ

বৌদ্ধ ধর্ম ছেড়ে পাহাড়ি তরুণী মুসলিম বিবাহ করায়, ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী কর্তৃক অপহরণ

||নিজেস্ব প্রতিনিধি||

হিল নিউজ বিডি.কম- স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্মান্তরিত ডালিয়া হোসেন খাগড়াছড়ি সদরের পেড়াছড়া এলাকার দয়াময় চাকমার মেয়ে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলো। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইংরেজি বিভাগ নিয়ে মাস্টার্স সম্পূর্ণ করেছিলো এইবার। ভালবেসে খাগড়াছড়ি সদরের মোঃ জিসান নামের এক মুসলিম বাঙ্গালী যুবককে বিবাহ করে। মোঃ জিসান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র বলে জানা যায়। ডালিয়া বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। ডালিয়ার ধর্মান্তরিত হওয়ার পূর্ব নাম ছিল ডালিয়া চাকমা, বর্তমানে নাম ধারণ করেন ডালিয়া হোসেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ডালিয়া হোসেন চট্টগ্রাম থেকে বাস যোগে নিজবাড়ি খাগড়াছড়ি যাচ্ছিলো। খাগড়াছড়ির পর্যটন এলাকার আলুটিলা নামক স্থান থেকে অপহরণ করে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ মূল প্রসিত গ্রুপ। অপহরণের মূল কারণ ছিলো ডালিয়া হোসেন উপজাতীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়। সে ফেসবুক স্ট্যাটাসে উপজাতী সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির সমালোচনা করে সন্ত্রাসীদের বিনাশ হবে বলে উল্লেখ করে। স্ট্যাটাসটির স্ক্রীনশট এর কপি সংযুক্তি।

ইতিমধ্যেই বাঙ্গালী যুবককে বিবাহ করে ডালিয়া হোসেন। এসকল বিষয় নিয়ে উপজাতীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ক্ষিপ্ত ছিলো ডালিয়া হোসেনের উপর। চট্টগ্রাম থেকে যখন খাগড়াছড়ি যাওয়ার বাসে উঠে ডালিয়া হোসেন তখন তার সঙ্গে কিছু উপজাতি যুবকও বাসে উঠে, উপজাতি যুবকেরা সম্পূর্ণ পথ গতিবিধি অনুসরণ করে। ডালিয়া হোসেন খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গা বাজার পৌঁছার পর তাকে অনুসরণের বিষয়টি বুঝতে পারেন। তাৎক্ষণিক তিনি ফোন করে বিষয়টি পিতা ও তার স্বামীকে অবগত করে। রাত সাড়ে আটটার পরে যাত্রীবাহি বাস মাটিরাঙ্গা অতিবাহিত হওয়ার পর খাগড়াছড়ি পর্যটন কেন্দ্র আলুটিলা বাস থামিয়ে তাকে অপহরণ করে উপজাতীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।

ডালিয়া হোসেন উপজাতীয় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী কর্তক অপহরণের পর থানায় পরিবারের পক্ষ হইতে অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ সাধারণ ডায়েরি ও মামলা গ্রহণ করেনি। এমন অভিযোগ পাওয়া যায় পুলিশের বিরুদ্ধে। অপহরণ ও অভিযোগ না নেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যদিও পুলিশ অভিযোগ নেওয়া বিষয়টি অস্বীকার করে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডালিয়া হোসেনের সহপাঠীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিন্দা জানিয়ে অতিবিলম্ব ডালিয়া হোসেনকে উদ্ধারের আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে স্টাট্যাস দিয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা নিজেদের ইচ্ছা মতো রীতি তৈরি করেছে। কোন উপজাতীয় তরুণী যদি বাঙ্গালী যুবককে বিবাহ করে বা ভালবাসে তাকে অপহরণ করে গণধর্ষণ পূর্বক হত্যা করা হয়৷ অথবা তরুণীর পরিবারকে বিশাল অর্থ জরিমানা করে তরুণীকে নিলামে তোলা হয়। উক্ত অঞ্চলে বাঙ্গালী যুবকদের যেসব উপজাতীয় পাহাড়ি তরুণী বিবাহ করে তাদের বেশিরভাগকেই অপহরণ করে গণধর্ষণ পূর্বক হত্যা ও অর্থ আদায় করা হয়। আর এইসব ধর্মান্তরিত তরুণীদের অপহরণ করার পরে স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার করে না। প্রশাসন উদ্ধার করতে অপারগ। প্রশাসনের উদ্ধারের অনিহাই প্রমাণ করে স্থানীয় প্রশাসন সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করে।

গতবছর খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গা থেকে ধর্মান্তরিত গৃহবধূ ফাতেমা বেগমকে অপহরণ করে ইউপিডিএফ মূল প্রসিত গ্রুপ। অথচ উপহৃত গৃহবধূকে উদ্ধার করেনি প্রশাসন। প্রথম আলো পত্রিকার সাংবাদিক সৈকত ভদ্র ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন খাগড়াছড়ির তরুণী সহযোদ্ধা রেটিনা চাকমাকে। বাঙালী ছেলেকে বিয়ে করায় রেটিনা চাকমার উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। সৈকত ভদ্র সংবাদ সম্মেলনে বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে এসে বাংলাদেশেও মেয়েদের উপর নিলামের মত মধ্যযুগীয় বর্বরতা সংঘটিত হতে পারে সেটা জেনে আপনারা অবাক হতে পারেন। তিনি স্ত্রী রেটিনা চাকমাকে নিলামের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য জাতীয় বিবেক ও মানবিকতার সহ প্রশানের কাছে আর্তনাদ করেছেন। রেটিনা চাকমার স্বামীর চোখের জল প্রশাসনের হৃদয় কোমল করেনি!! বাঙ্গালী মুসলিম যুবক বিবাহ করা এই রকম অহরহ তরুণীকে প্রশাসন উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। প্রশাসনের নীরবতার কারণে উপজাতীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গুলো বরাবরই ধর্মান্তরিত তরুনীদের অপহরণ করতে সাহস পায়।

১৯৯৭ সালে সরকার ও পাহাড়ের তথাকথিত শান্তিবাহিনী সন্তু গ্রপের মধ্যকার “পার্বত্য চুক্তি” পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে দিতে পারেনি। সংঘাত কিছুটা কমলেও অশান্তি রয়ে যায় খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান অঞ্চলে। শান্তিচুক্তি পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) তথাকথিত শান্তিবাহিনী সন্তু গ্রুপ সম্পূর্ণ অস্ত্র জমা দেয়নি। কিছু সংখ্যক অস্ত্র জমা দিয়ে সরকারের সঙ্গে চুক্তি সাক্ষরিত করে। চুক্তির সময় সম্পূর্ণ অস্ত্র জমা দেয়নি, অস্ত্র শুধুমাত্র সীমিত করেছে এমন সরাসরি জানিয়েছেন চুক্তি পক্ষের প্রধান নেতা সন্তু লারমা। জেএসএস এর তৎকালীন ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রসিত বিকাশ খিসা শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করে চুক্তি সাক্ষরিত হওয়ার তিন মাস পর ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ( ইউপিডিএফ) নামক একটি সশস্ত্র সংগঠন তৈরি করে। যারা ২০০১ সালে তিন বিদেশি পর্যটককে রাঙ্গামাটি নানিয়ারচর উপজেলা হইতে অপহরণ করে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ আদায় করে নিজেদের শক্তি সামর্থ্য জানান দেয়। স্বজাতি হত্যাসহ একের পর এক বাঙ্গালী হত্যা সহ চাঁদাবাজি অস্ত্রবাজি করে পার্বত্য চট্টগ্রামের ত্রাস সৃষ্টি করে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী সংগঠন। ইউপিডিএফ সাধারণ পাহাড়ি-বাঙ্গালী হত্যার পাশাপাশি প্রশাসনের উপর চোরাগোপ্ত হামলাও করে যাচ্ছে। গত ১৮ মার্চ ৫ম জাতীয় উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার নয় কিলো নামক স্থানে প্রশাসনের লোকদের উপর বাঁশ ফায়ার করে। এতে ঘটনার স্থলে ৭জন নিহত ও ঢাকায় সামরিক হাসপাতাল সিএমএস’এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জন নিহত সহ সর্বমোট মোট ৮জন নিহত ও ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।

সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে নির্যাতনের শিকার পার্বত্য জনপদ। শুধু বাঙ্গালী নয় স্বজাতি পাহাড়িদেরও চাঁদার জন্য বিভিন্ন কারণে অপহরণ ও হত্যা করে।

শুধু এক ডালিয়া হোসেন নয়, খাগড়াছড়ির রেটিনা চাকমা, গুইমারা উমাচিং মারমা, মাটিরাঙার সোনাবি চাকমা, রাঙামাটি কুতুকছড়ির রীনা ত্রিপুরা, রামগড়ের মণিকা ত্রিপুরা, এরকম আরো অসংখ্য উপজাতীয় তরুণীকে বাঙালী বিয়ে করায় অপহরণ, গণধর্ষণ, হত্যাসহ বিভিন্ন নারকীয় অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়েছে।

মতামত

x